পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার ৮১টি গুচ্ছগ্রামে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। নিয়মানুযায়ী প্রতিমাসে অথবা প্রতি দুইমাস অন্তর গুচ্ছগ্রামে বরাদ্দ এলেও গত চার মাসেও ৮১টি গ্রামের কার্ডধারীরা রেশন না পাওয়ায় এ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। কার্ড প্রতি সরকারিভাবে প্রতিমাসে ৮৫ কেজি চাল পায় তারা।প্রায় সাড়ে চার লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এসব গুচ্ছগ্রামে দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে অপুনর্বাসিত ২৬ হাজার ২২০ উদ্বাস্তু পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল সরকারি ভাবে দেয়া একটি রেশন কার্ড। জেলা প্রাশাসন সূত্রে জানা গেছে, গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারীদের চাল এর পরিবর্তে এবার বরাদ্দ এসেছে গম। ৮৫ কেজি খাদ্যশস্য চাল এর স্থলে ৫৫ কেজি গম ও ৩০ কেজি চাল বরাদ্দ হওয়ায় গুচ্ছগ্রামের ২৬,২২০ টি কার্ডধারীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।অপরদিকে, নীতিমালা বহির্ভূতভাবে নিয়োগকৃত ৮১টি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যানদের অনিয়ম দুর্নীতি রেশন কম দেয়া, কার্ডধারীদের বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে রেশনের পরিবর্তে ন্যায্যমূল্য না দিয়ে কম টাকা দেয়ার ফলে গুচ্ছগ্রামবাসীরা আরো বেশি বেকায়দায় পড়েছে। এদিকে প্রকল্প চেয়ারম্যানদের দুর্নীতি ও অনিয়মের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পানছড়ি উপজেলার দক্ষিণ জিয়া নগর গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান আল আমিনের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক বরাবরে কার্ডধারীরা অভিযোগ করেছে। এছাড়া মাটিরাঙ্গা উপজেলার ধলিয়া ও খেদাছড়া প্রকল্প চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা বেষ্টনী নামক বন্দি শিবিরে এসব পরিবারকে বসবাসের জন্য গুচ্ছগ্রাম তৈরি করে দেয়া হয়। বিভিন্ন সরকার তাদের পুর্নবাসনের কথা বললেও দীর্ঘ ২৯ বছর যাবৎ গুচ্ছগ্রামের লাখ লাখ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। ২৯ বছর আগের ২৬ হাজার পরিবার বর্তমানে দ্বিগুণের ও বেশী হয়েছে। রেশনের উপর নির্ভর পরিবারগুলো দীর্ঘ ৪ মাস রেশন না পাওয়ায় চরম ভাবে খাদ্য সংকটে পড়েছে। এদিকে নিয়মিত রেশন না পাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে দিচ্ছে।ভুয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান আবুল লিডার ও মহালছড়ির উপজেলার নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন সাবেক প্রকল্প চেয়ারম্যান মনির আহম্মেদসহ বেশ কয়েকটি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যানরা জানান, রেশন নির্ভর মানুষগুলো কয়েক মাস নির্দিষ্ট সময়ে রেশন না পাওয়ায় অভাবের তারণায় অনেকেই গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী ও বাড়ির আশে পাশের গাছ গাছালি বিক্রি করে দিচ্ছে। এদিকে ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি জানান, গুচ্ছগ্রামবাসীর রেশন গমের পরিবর্তে চাল বরাদ্দের চেষ্টা চলছে।এমএএস/পিআর