গাইবান্ধায় শৈত্য প্রবাহের সঙ্গে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তরের হিমেল হাওয়া অব্যাহত থাকায় কয়েকদিন ধরে জেলার সর্বত্র কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের সঙ্গে শীতের তীব্রতাও বেড়ে গেছে। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সূর্যের আলো দেখা যায়নি। এর মধ্যে দুপুরের পর থেকে শুরু হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টি আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় দিনের বেলাতেই আঁধার নেমে আসে। শীতের কবল থেকে বাঁচার জন্য গ্রামাঞ্চলের অনেক জায়গায় লোকজন খড়কুটো জ্বালিয়ে গা গরম করতে দেখা যায়। এদিকে, শৈত্য প্রবাহের পাশাপাশি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি এবং হিমেল হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছে প্রসূতি মা, শিশু, বৃদ্ধসহ গবাদি পশু-পাখি। বিশেষ করে চরাঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে প্রাণিরাও পড়েছে চরম বিপাকে। এ ছাড়া, গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির কারণে জেলার খেটে খাওয়া ও কর্মহীন মানুষরা হয়ে পড়েছে নিরুপায়। তাদের আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েন। তীব্র শীতের প্রকোপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিত ছিন্নমূল, নদী তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলের মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন। শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর, মাথা ব্যথাসহ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শৈত্য প্রবাহের সঙ্গে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির কারণে জেলার সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের শীতবস্ত্রের দাবি উঠেছে। এ ছাড়া পথ ও ছিন্নমূল মানুষগুলো পড়েছেন বিপাকে। জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম/আরআইপি