গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জের তিন ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (তালগাছ) প্রতীকের এজেন্টকে ভয় দেখিয়ে বের করে দেয়া হুমকি ও ফলাফলে কারচুপির অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ কর্মী-সমর্থকরা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের পাকা সড়কে অবস্থান নেয় তারা। বুধবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধের কারণে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের দুপাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। অবরোধের কারণে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকেও ছেড়ে যায়নি কোনো বাস। এতে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছে। অবরোধের কারণে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে থাকা জেলা প্রশাসক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সরকারি কর্মকর্তাসহ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বের হতে পারেনি। এছাড়া ফলাফল নিতে আসা অনেক প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরাও জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্তরে আটকা পড়েন। এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা আ.লীগের উপ-দফতর সম্পাদক মো. মাসুদ রানা মুঠোফোনে জানান, ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ হল রুমের ভোট কেন্দ্রে ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে আ.লীগের প্রার্থী সৈয়দ শামস-উল-আলম হিরুর এজেন্টকে রের করে দিয়ে ভোট কেন্দ্রে তালা দেয়। এছাড়া সুন্দরগঞ্জের পৌর সভা ও বাজারপাড়ার দুটি কেন্দ্রেও এজেন্টসহ ভোটারদের হুমকি দেয় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (ঘোড়া) প্রতীকের আতাউর রহমান আতার কর্মী-সমর্থকরা। তিনি আরও জানান, কারচুপি করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাই তিন কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবিতে অবরোধ করেছে নেতাকর্মীসহ কর্মী-সমর্থকরা। গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, এজেন্ট বের করে দেয়া ও ফলাফল কারচুপির অভিযোগ এনে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রেখেছেন তালগাছ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।এর আগে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আবদুস সামাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ১৫ কেন্দ্রে তিনি ৩৮৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ.লীগের সৈয়দ শামস-উল-আলম হিরু পেয়েছেন ৩৭০ ভোট। তবে অভিযোগের বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম/জেআইএম