দেশজুড়ে

পাস করেছেন ৬৩ বছর বয়সী সেই বৃদ্ধা

৬৩ বছর বয়সী সেই বাসিরন নেছা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৩ পেয়ে কৃতকার্য হয়েছেন। এদিকে বাসিরন নেছার কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনের খবর শুনেই জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী সদস্য সেলিনা আক্তার বানু তাকে অভিনন্দন জানাতে বেলা আড়াইটার দিকে হোগলবাড়িয়া বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে আসেন। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বাসিরন নেছা বলেন, আমার জীবনের স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেখা। আমার স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ পূরণ হয়েছে। এখন আমি হাইস্কুলে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। আমি হাইস্কুলে যাবো; এ কথা ভাবতেই আনন্দে মাতোয়ারা হচ্ছি। এ সময় তিনি সবার কাছে দোয়া চান।প্রতিক্রিয়ায় বাসিরন নেছা আরও বলেন, পাস করার মধ্যে যে এতো আনন্দ তা আগে বুঝিনি। এজন্য শিক্ষক, সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি। যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন বাসিরন।  এদিকে বাসিরনের অভাবনীয় ফলাফলে বেজায় খুশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীরা। বাসিরন নেছার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনার কলি জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বাসিরনকে লেখাপড়া শেখাচ্ছি। তিনি যে এতো ভালো ফলাফল করবেন তা জানা ছিল না। এ ফলাফলে গর্বিত তিনি। এদিকে বাসিরনকে শুভেচ্ছা জানাতে তার বাড়িতে ছুটে যান গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামান ও মটমুড়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল আহম্মেদ। পিএসসি পরীক্ষা পরিদর্শন করে বাসিরনের লেখাপড়ার সব ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এসময় বাসিরন নেছার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দীন ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আহসানুল্লাহ মহনসহ এলাকার বিভিন্ন লোকজন উপস্থিত ছিলেন।হোগলবাড়ীয়া পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয়জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বাসিরন নেছা জিপিএ-৩ পেয়ে বিদ্যালয় সেরা হন। তার এ কৃতিত্বে আনন্দের বন্যা বইছে। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামের মৃত রহিল উদ্দীনের স্ত্রী বাসিরন নেছা পিএসসি পরীক্ষা দিয়ে এলাকায় আলোচিত হন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার আগ থেকেই বাসিরন ফলাফল নিতে বিদ্যালয়ে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।এমএএস/পিআর