দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় ৩ কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি

গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে অনিয়ম-দুর্নীতি ও নির্বাচনী আইন বহির্ভুত কার্যক্রম সংগঠিত হওয়ায় ৩ কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল প্রত্যাখান ও পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক পরজিত প্রার্থী।উক্ত দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. সৈয়দ-শামস-উল-আলম হিরু (তালগাছ)। অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভোটগ্রহণ কালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদর ও বাজারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সীমানার বাইরে আওয়ামী লীগ দলীয় নির্বাচনী অফিসে প্রশাসনের লোকজন ভাঙচুর করে আতংক সৃষ্টি করে। সেইসঙ্গে প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদেরকে বুথ থেকে বের করে দেয় প্রতিদ্বন্দ্বী আতাউর রহমান আতার (ঘোড়া) সমর্থক বাহিনী। এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা না করে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও রোমানের নেতৃত্বে কতিপয় বহিরাগত লোকজন তালগাছ প্রতীকের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়। পরে প্রিজাইডিং অফিসার ভুয়া মনগড়া তথ্য সম্বলিত ভোটের ফলাফল প্রকাশ করে। অপরদিকে পলাশবাড়ি উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নে ভোটার তালিকায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভোটার তালিকাভূক্ত হয়। একই কারণে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোটার তালিকাভূক্ত না করেও ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, সকল কেন্দ্রের ফলাফল আসার আগেই রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ ৫টা ৮ মিনিটে বেসরকারি চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতাউর রহমান আতাকে যোগসাজসী ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। অথচ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের ফলাফল চূড়ান্ত না করেই তড়িঘড়ি করে অজ্ঞাত কারণে চেয়ারম্যানের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বিশেষ মহলের সঙ্গে আঁতাত করে চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাউর রহমান আতাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এসব অনিয়ম কারচুপি বন্ধে নির্বাচন রিটার্নিং অফিসারকে মোবাইল ফোনে এবং ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করা সত্তেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এমনকি লিখিতভাবে অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তাই সংবাদ সম্মেলন থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদর, বাজারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ফুলছড়ির উপজেলার ভোট কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. সৈয়দ-শামস-উল-আলম হিরু (তালগাছ)।সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ফরহাদ আব্দুল্যাহ হারুন বাবলু, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, রনজিৎ বকসী সূর্য্য, মো. পিয়ারুল ইসলাম, এমারুল ইসলাম সাবিন, মো. মাসুদ রানা, শাহরিয়ার খান বিপ্লব, অ্যাড. আব্দুল জলিল আকন্দ, সৈয়দ রেজওয়ান, অ্যাড. নিরঞ্জন ঘোষ, নির্বানেন্দু বর্মণ ভাইয়া, তাহমিদুর রহমান সিজু, আব্দুল লতিফ মন্ডল ও শাহরিয়ার আহমেদ শাকিল প্রমুখ। জিল্লুর রহমান পলাশ/এফএ/পিআর