দেশজুড়ে

তালপাতায় হাতেখড়ি তিন শতাধিক শিশুর

গুরুগৃহের সেই ঐতিহ্যবাহী ‘হাতেখড়ি’ দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা ফিরিয়ে এনেছে উদীচী যশোর। শনিবার যশোরের ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিশুকে তালপাতায় হাতেখড়ি দেয়া হয়। যশোর পৌর উদ্যানে হাতেখড়ি উৎসবে শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ মহল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উদীচী যশোর পরিচালিত অক্ষর শিশু শিক্ষালয়, লিটিল স্টার কিন্ডারগার্টেন, সেঞ্চুরি প্রি-ক্যাডেট, ওয়াইডাব্লিউসিএ ও মৌমাছি স্কুলের তিন শতাধিক শিশুকে হাতেখড়ি দেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের গুণীজনরা।অনুষ্ঠানে শিশুদের হাত ধরে হাতেখড়ি দেন প্রবীণ শিক্ষক তারাপদ দাস, জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর, যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধবচন্দ্র রুদ্র, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারী, উদীচী যশোরের উপদেষ্টা অ্যাড. কাজী আব্দুস শহীদ লাল, রেজিনা আক্তার প্রমুখ।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, স্কুলজীবনের ও জ্ঞানার্জনের শুরুতে সার্বজনীন এমন আয়োজন উপস্থিত কোমলমতি শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার থেকে আমাদের। এ শিক্ষায় মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে শিশুদের শিশুর মতো বড় হতে দিন।তিনি বলেন, সব কিছুতে প্রথম হতে হবে এমন মানসিক চাপ দিয়ে বড় করে তোলার প্রয়াস শিশুদের সুকুমার প্রবৃত্তি প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, যা কোনো অভিভাবকের কাম্য হতে পারে না। তিনি শিক্ষার শুরুতে শিশুদের নিয়ে এমন আয়োজন করায় উদীচীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আয়োজকরা জানান, স্বাক্ষর জ্ঞানের প্রথম ধাপ হিসেবে প্রাচীনকালে তালপাতায় শিশুদের হাতেখড়ির আয়োজন করা হতো। হাতেখড়ির মধ্য দিয়ে শিশুর শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতো। আবহমান কাল ধরে এ প্রথা বিরাজ রয়েছে। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া সেই হাতেখড়ি প্রথা বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়। প্রাচীন এ ঐতিহ্যবাহী প্রথাকে শহুরে শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরিয়ে এনেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর। সংগঠনটি প্রতি বছর শিক্ষাবর্ষের শুরুতে আয়োজন করে হাতেখড়ি উৎসব। ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার যশোরের ছয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিশুর তালপাতায় হাতেখড়ি হয়েছে। মিলন রহমান/এএম/জেআইএম