জাতীয়

নো ড্রামা, নো লবিং- এটাই আমাদের অবস্থান: চট্টগ্রামের ডিসি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ‘নো ড্রামা, নো লবিং- এটাই আমাদের অবস্থান।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ডিসি। তিনি বলেন, ‘আজই আমরা শেষবারের মতো সতর্ক করে দিচ্ছি। নির্বাচনের দিন কেউ কোনো কেন্দ্রে ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করলে তাকে আর সতর্ক করা হবে না, সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, সবার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অসততা বা অনিয়ম ধরা পড়লে দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা রাজনৈতিক পছন্দ দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলতে পারবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আনসার সদস্যদের মোবাইল মনিটরিং ব্যবস্থা, পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং সেনাবাহিনী ও বিজিবির পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও থাকবে। কেন্দ্রগুলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তদারকব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। কোনো ভয় বা আতঙ্ক থাকলে তা প্রশাসনকে জানাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ এবং আনসার ও ভিডিপির পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার ও কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র।

এমআরএএইচ/একিউএফ/এএসএম