দেশজুড়ে

তালাকের খবরে পুলিশপত্নীর আত্মহত্যা!

মুঠোফোনে তালাকের খবর শুনে প্রিয়া খাতুন (১৯) নামে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার চেচুয়াখোলা গ্রামে। প্রিয়ার স্বামী রাকিব হাসান রাজারবাগ পুলিশ লাইনস টেলিকমে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদে কর্মরত। রাকিব বাঘারপাড়া উপজেলার সাইটখালী গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। সোমবার দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রিয়ার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।মুঠোফোনে প্রিয়াকে তার স্বামী বলেন, ‘তালাকনামা ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। আজই পেয়ে যাবি। তুই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিস।’ এমন খবর শুনে ঘরের আড়ায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রিয়া আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের দাবি। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাঘারপাড়া উপজেলার সাইটখালী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাকিব হাসানের সঙ্গে একই উপজেলার চেচুয়াখোলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ে প্রিয়ার ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক নির্যাতন করত। ছয় মাস আগে প্রিয়ার পরিবারের লোকজন বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে রাকিবদের বাড়ি যান। রাকিবের বাড়ির লোকজন তাদের অপমান করে প্রিয়াকে তাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দেন। তখন থেকেই প্রিয়া বাবার বাড়ি অবস্থান করছিলেন। চলতি বছর প্রিয়া যশোর সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (অনার্স) প্রথম বর্ষে ভর্তি হন।প্রিয়ার মামা বিপ্লব হোসেন বলেন, রোববার বিকেল ৩টার দিকে রাকিব ফোন করেন প্রিয়াকে। ওই সময় তাকে তালাক দেয়া হয়েছে এবং তালাকনামা আজকালের মধ্যে তার হাতে পৌঁছাবে জানালে প্রিয়া ভেঙে পড়েন। পরে পোস্ট অফিস থেকে বলা হয় প্রিয়ার নামে একটি চিঠি এসেছে। সেটি নিতে প্রিয়াকে স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর পরই বাড়ির সবার অগোচরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে প্রিয়া আত্মহত্যা করেন।সোমবার তালাকের কপি হাতে পান প্রিয়ার পরিবারের সদস্যরা। তালাকনামায় রাকিব উল্লেখ করেছেন, ‘মনের অমিল, বনিবনা না হওয়া, আমার অবাধ্য হওয়া’ ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে ২ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে ঢাকার বিজয়নগর কাজী অফিস থেকে একটি তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।প্রিয়ার মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট করেছেন বাঘারপাড়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরুণ কুমার কর। তিনি জানান, পরিবারিক সূত্রে জেনেছি প্রেমের সম্পর্কের জের ধরেই প্রিয়া ও রাকিবের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মেয়ে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে প্রিয়ার পরিবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। অভিযোগর পর এ বিষয়ে তদন্তও হয়েছে। তারপর থেকে মেয়েটি বাবার বাড়ি আছে। সম্প্রতি রাকিব দ্বিতীয় বিয়ে করেছে বলে প্রিয়ার পরিবার জানতে পারে। রোববার দুপুরে ক্ষুব্ধ রাকিব ফোন করে প্রিয়াকে জানায় ‘তালাকনামা পাঠিয়েছি পেয়ে যাবি’। তালাকের খবর পেয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দাখিল করা হলে ৩০৬ ধারায় মামলা হবে।মিলন রহমান/এআরএ/পিআর