দেশজুড়ে

ঢেঁকিই তাদের একমাত্র সম্বল

জহির উদ্দিন। কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন অনেক আগেই। বয়সের ভারে ন্যুব্জ। দৃষ্টিশক্তি নেই। এমনকি কানেও ঠিকমতো শুনতে পান না। সারা জীবন অন্যের বাড়ি কাজ করে আসা প্রায় শত বছর বয়সী জহির উদ্দিনের এখন বেঁচে থাকাও ক্ষীণ হয়ে এসেছে। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তার।নওগাঁর মান্দা উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়ন নবগ্রাম গ্রামে দুই মেয়ে আবিয়া বেওয়া (৬৫) ও জুলেখা খাতুনকে (৬০) নিয়ে কুড়োঘরে বসবাস করেন। গত ১০ বছর থেকে বয়স্কভাতা পাচ্ছেন। তবে বয়স্কভাতা দিয়ে তিন সদস্যের ভরণপোষণ কষ্টকর। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।বড় মেয়ে আবিয়া বেওয়া ১১ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ায় বাবার বাড়ি আশ্রয় নিয়েছেন। আরেক মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন পাশের গ্রামে। জামাইয়ের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। তারা কোনো খোঁজখবর রাখে না।ছোট মেয়ে জুলেখা। জন্মের পর থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী। দৃষ্টিশক্তি কম। কথাও অস্পষ্ট। লাঠি দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। আজও তার প্রতিবন্ধী কার্ড হয়নি।ঘরের পাশেই তালপাতার ভাঙাচোরা ছাউনির নিচে ‘ঢেঁকি’। ‘ঢেঁকি’ই তাদের সম্বল। ১০-১১ বছর ধরে ঢেঁকি দিয়ে প্রতিবেশীদের আটা কুড়ে (চাল ভেঙে) জীবিকা নির্বাহ করেন জহির উদ্দিন। এ কাজে সহযোগিতা করেন বড় মেয়ে আবিয়া বেওয়া। বয়স হওয়ায় তিনিও কাজ করতে পারেন না। তবে বর্ষা মৌসুমে ঝড়বৃষ্টিতে তালপাতার ভাঙাচোরা ছাউনি দিয়ে পানি পড়লে সেদিনের মতো রোজগার বন্ধ থাকে।কোনো আয়ের উৎস না থাকায় একই পরিবারে তিনজন সদস্য আজ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জীবনের অন্তিম মুর্হূতে এসে তারা যেন খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারে এজন্য সরকারসহ স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করছে এলাকাবাসী। প্রতিবেশী শরিফুল বিবি বলেন, খুব কষ্টে থাকেন তারা। কেউ আটা কুড়তে আসলে সেখান থেকে যে যা দেয় তাই খেয়ে থাকেন তারা। তাদের কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগে।স্থানীয় শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, পরিবারটা খুবই অসহায়। একবেলা খেয়ে দুই বেলা না খেয়ে দিন পার করতে হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির তাদের প্রতি কোনো গুরুত্ব নেই। তারা যেন দুই বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারেন এজন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, এমন অসহায় পরিবারের কথা জানা নেই। তবে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই পরিবারকে সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করা হবে। আব্বাস আলী/এফএ/এমএস