দেশজুড়ে

ঝালকাঠি-ঢাকা লঞ্চ ক্যান্টিনে খাবারের ‘গলাকাটা’ দাম

ঝালকাঠি-ঢাকা রুটে লঞ্চ ক্যান্টিনগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ‘গলাকাটা’ দাম নেয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। এ অবস্থায় জিম্মি করে অতিরিক্ত দাম নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। অভিযোগ রয়েছে এখানে অতিরিক্ত দাম নিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বোতলজাত পানিসহ সকল পণ্যের গায়ের মূল্যের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নেয়া হয়। নেই কোনো সঠিক মূল্য তালিকাও। এ ব্যাপারে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাওয়া যায় না বলে জানান ভুক্তভোগীরা। ঢাকা-ঝালকাঠি রুটে চলাচলকারী এমভি ফারহান ও সুন্দরবন লঞ্চের ক্যান্টিনের মান ভালো নয়। কিন্তু দাম নেয়া হয় বেশি। ক্যান্টিনগুলোতে এক প্লেট মুরগির মাংসের দাম নেয়া হয় ১০০-১২০ টাকা যা সাধারণ হোটেলে ৬০-৭০ টাকা। এক প্লেট গরুর মাংস ১৫০-১৭০ টাকা, প্রতি প্লেট সবজি ২৫ টাকা, রুই মাছ ৮০ টাকা, পোনা মাছ ১০০ টাকা, আইড় মাছ ১২০ টাকা, ডাল প্লেট নেয়া ২৫-৩৫ টাকা, প্রতি প্লেট ভাত ১৫ -২০ টাকা ও প্রতি কাপ চা বিক্রি করা হয় ১০-১৫ টাকা দরে।সব খাবারের দাম যেকোনো সাধারণ হোটেলের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ। খাবার পরিবেশন ও সংরক্ষণও করা হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। ভাত ও তরকারির মধ্যে পাওয়া যায় ময়লা। যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, লঞ্চগুলোর ক্যান্টিনে ‘পুরোপুরি ডাকাতি’ হয়। প্রতিটি জিনিসের দাম নেয়া হয় অত্যাধিক বেশি। কোনো প্রতিবাদ করা যায় না। জসিম উদ্দীন নামে এক যাত্রী বলেন, এবার ঝালকাঠি থেকে ঢাকা ফেরার সময় বাড়ি থেকে রাতের খাবার আনা হয়নি। তাই রাত ১০টার সময় সুন্দরবন লঞ্চের ক্যান্টিনে রাতের খাবার খেতে যাই। কিন্তু ক্যান্টিনে খাবারের যা মূল্য তা শুনে রীতিমতো হতবাক। আর খাবারের মান খুবই খারাপ। হোটেলের ম্যানেজারকে দাম বেশির কারণ জানতে চাইলে খারাপ ব্যবহার করেন। তাই কোনো কথা না বলে না খেয়েই চলে আসি। ঝালকাঠির বেসরকারি একটি সংগঠনের সভাপতি কাজী খলিলুর রহমান বলেন, লঞ্চের কেবিনে যাত্রীদের খাবার দেয়ার সময় কোনো ঢাকনা ছাড়াই আনা-নেয়া করে ক্যান্টিন বয়রা। তাতে একজন যাত্রী নামতেছে একই সময়ে কেন্টিন বয় উম্মুক্তভাবে খাবার নিয়ে উঠতেছে। এতে করে ধুলো-বালি ও ময়লা উড়ে খাবারে পড়ছে। আর সেদিকে বিবেচনা না করেই যাত্রীদের সেই খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুন্দরবন লঞ্চের ক্যান্টিন পরিচালক আতিকুর রহমান নান্নু বলেন, ভাই আমরা কী করবো। এই ছোট ক্যান্টিনের প্রতিদিনের ভাড়া নেয়া হয় তিন হাজার টাকা। এছাড়া ৮০ হাজার টাকা অগ্রিম নেয়া হয়েছে। তাই আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে এই অতিরিক্ত দাম নিচ্ছি।     এফএ/আরআইপি