জাতীয়

নারায়ণগঞ্জের পথে সাত খুনের প্রধান তিন আসামি

বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে প্রধান তিন আসামি তারেক সাঈদ, নূর হোসেন ও বেলালকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।কাশিমপুর-২ জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামিদের বহনকারী গাড়িটি নারায়ণগঞ্জের দিকে রওনা হয়েছে।তবে অাদালত চত্বরে উপস্থিত অতিরিক্ত এসপি শরফুদ্দিন জানান, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আসামিবাহী গাড়ি নারায়ণগঞ্জের অাদালতে এখনো (সকাল ৯টা) পৌঁছেনি।এদিকে আলোচিত সাত খুন মামলার রায়কে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলা জজ কোর্টে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে।সোমবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক।   উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মামলার বিচার কাজের আইনি কার্যক্রম শেষ হয় গত ৩০ নভেম্বর। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল অপহরণের পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল চার্জশিট, ওই বছরের ১২ নভেম্বর ভারত থেকে নূর হোসেনকে দেশে আনা, আদালতে সাক্ষীদের চোখ রাঙানি, বাদী পক্ষকে হুমকি, অন্যতম আসামি র‌্যাবের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা তারেক সাঈদের অসুস্থতার নাটকে হাসপাতালে ভর্তি, কাঠগড়ার ভেতরে নূর হোসেনের মারামারিসহ অনেক নাটকীয়তাও হয়েছে মামলা চলাকালে।২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন অপহরণ হওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তার তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর ত্রিমোহনায় বন্দর শান্তিরচর এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় প্রত্যেকের বিভৎস মরদেহ উদ্ধারের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ।ওই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন প্রবীণ আইনজীবী চন্দন সরকার নিহত হওয়ায় রাজপথ থেকে আদালত প্রাঙ্গণ পর্যন্ত আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসেন। এমনকি আইনজীবীরা নারায়ণগঞ্জে নজিরবিহীন হরতাল পালন করেন।  জেইউ/এআর/এআরএস/এমএস