নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতারে উচ্চ আদালতে যাবেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। আজ সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ঘোষিত এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ৩৫ আসামির মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার রয়েছে। বাকি আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হবে। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেয়ার জন্য কার্যকরী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।তিনি বলেন, আমরা এই রায়ে আদালতের প্রতি সন্তুষ্ট। দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।উল্লেখ্য, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট (চাকরিচ্যুত) কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, চাকরিচ্যুত কমান্ডার এম এম রানা ও চাকরিচ্যুত মেজর আরিফসহ মোট ২৬ জনকে সাত খুনের মামলায় ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন।গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন।পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। অপর মামলার বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।দুটি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এতে দুটি মামলায় সাক্ষী করা হয় ১২৭ জন করে।জেইউ/এআরএস/এমএস