নওগাঁর পোরশা উপজেলার মশিদপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান গৌতম কুমার সাহা। তিনি পেশায় একজন কৃষক। ছোট থেকেই এলাকার বিভিন্ন স্থানে তালগাছ রোপণ করেন। তালগাছ রোপণ করাই যেন তার নেশা। এছাড়া সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত। ভবানীপুর গ্রামে প্রবেশের রাস্তার দুইপাশে চোখে পড়ে সারিসারি তালগাছ। এখন বেশির ভাগ সময়ই তালগাছের পরিচর্যা করে সময় কাটান গৌতম কুমার সাহা। এলাকায় এখন তিনি তালগাছি হিসেবে পরিচিত। দিন দিন চারপাশ থেকে তালগাছ হারিয়ে যাচ্ছে। বিলুপ্তির কথা চিন্তা করে গত চার বছর আগে রাস্তার পাশে ও সরকারি জমিতে তালগাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর থেকেই শুরু করেন তালগাছ রোপণ। তালবীজ বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ ও প্রতিটি বীজ পঞ্চাশ পয়সায় কিনেন তিনি। ওই বীজগুলো মশিদপুর ইউনিয়নের সুড়িপুকুর থেকে ছাতোয়া ৯ কিলোমিটার ও কোলাপাড়া-ভবানীপুর হয়ে শরিয়ালা ৩ কিলোমিটার রাস্তার পাশে এবং শিশা-মাটিন্দর খাড়ির পাশে ৪/৫কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রোপণ করেছেন। তালবীজ থেকে এখন দেড় থেকে দুই ফিট গাছ বড় হয়েছে আবার কোথায় হয়ে উঠছে। এ পর্যন্ত তিনি ১৫ হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন। প্রায় সবগুলো বীজ থেকে তালগাছ হয়েছে।তালগাছি গৌতম কুমার সাহা বলেন, সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে প্রকৃতি। সেই সাথে জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির ক্ষয়রোধ, অনাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আকাশে মেঘ জমলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বজ্রপাতে মানুষ প্রায় মারা যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় চিন্তা থেকে তালবীজ রোপণ করা। এছাড়া দিন দিন তালগাছ হারিয়ে যাচ্ছে।তিনি বলেন, এ উপজেলা ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র এলাকা। পানির সংকট। আবহাওয়া উত্তপ্ত। বৃষ্টি কম। তালগাছ রোপণে জনগণের যেমন উপকার হবে, তেমনই দেশেরও উন্নয়ন হবে। কথাগুলো মাথায় রেখে নিজ উদ্যেগেই তালগাছ রোপণ করছেন। শুধু এ ইউনিয়নেই নয় ভবিষ্যতে গোটা উপজেলায় তালগাছ রোপণের পরিকল্পনা আছে। গৌতম বলেন, তালগাছ রোপণে উপজেলা কৃষি অফিস বিভিন্নভাবে উৎসাহ, পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছে। তিনি বেচেঁ থাকা পর্যন্ত তালগাছ রোপণ করে যাবেন এবং নিজেই এগুলোর পরিচর্যা করবেন বলেও জানান।এ বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পোরশা জোনের সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, গৌতমের তালগাছ রোপণের কথা তিনি শুনেছেন। তবে রাস্তার পাশে তালগাছসহ বিভিন্ন গাছ যদি কেউ রোপণ করে এক্ষেত্রে বিএমডিএ থেকে সহযোগিতা করা হবে।আরএআর/আরআইপি