দেশজুড়ে

নূর হোসেনের টার্গেট ছিল নজরুল

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের বিরোধের জেরেই ছয়জনকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। নূর হোসেনের টার্গেট ছিল নজরুল ইসলাম। নজরুলকে শেষ করতে গিয়ে বাকি ছয়জনকে খুন করা হয়। নূর হোসেন ও নজরুল দুজনই ছিলেন সন্ত্রাসী। তাদের ছিল বিশাল বাহিনী। নজরুল ইসলামকে হত্যা করে পুরো রাজত্ব একাই দখলে নিতে চেয়েছিলেন নূর হোসেন।   রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারি কৌঁসুলি ওয়াজেদ আলী খোকন আদালতের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এসব কথা জানান।গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের মামলায় পাঁচ বাহিনীর সাবেক ১৬ কর্মকর্তা, সদস্যসহ ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের অন্যতম হলেন সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক দুই কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা।  রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, একটি শৃঙ্খলিত বাহিনীর কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতকারী, কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী দ্বারা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এখানে নূর হোসেন একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও গডফাদার, অপরজন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুজনের দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একজন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামকে হত্যা করতে গিয়ে নিরীহ ছয়জন র‌্যাব সদস্য ও নূর হোসেন বাহিনীর দ্বারা নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন।পিপি আরো জানান, ‘বিচারক রায়ের পর্যালোচনায় র‌্যাবের যেমন প্রশংসা করেছেন তেমনি কিছুটা তিরস্কারও করেছেন। যেন ভবিষ্যতে র‌্যাবে এ ধরনের ব্যক্তি লোভ লালসা উচ্চবিলাসী বাসনায় যে কোনো ঘৃণ্য কাজ করতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাছাড়া যারা আছেন তারাও যেন সতর্ক হয়ে যান। বিচারক এটাকেই তিরস্কার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।শাহাদাত হোসেন/এআরএ/আরআইপি