মানবিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, শিক্ষকরা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সমানভাবে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতেন। কিন্তু এখনকার লেখাপড়ায় পার্থক্য দেখা দিয়েছে। এখন ভালো ফলাফল করাই শিক্ষক-অভিভাকদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, এখনকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আমি বলি, জিপিএ-৫ নির্যাতন শিক্ষাব্যবস্থা। এ প্রতিযোগিতায় দৌঁড়াতে গিয়ে শিশুদের মধ্য থেকে মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের বিভ্রান্ত করে জঙ্গিবাদে উদ্ধুদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে দুই দিনব্যাপী নওগাঁ জিলা স্কুলের শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের প্রথম দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই জীবনে সফল হওয়া যায়। ভালো ফলাফলে কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবেন আবার কেউ নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করে শিল্পী ও কবি-সাহিত্যিক হবে। শিশুদের সেই সৃজনশীলতাকে বিকশিত করতে হবে। এটার দায়িত্ব শিক্ষক ও অভিভাবকদেরই নিতে হবে। শতবর্ষ পূর্তি উৎসব উপলক্ষে দুইব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির প্রথম দিন শুক্রবার প্রথম পর্ব সকাল ৮টা থেকে নিবন্ধনকৃত শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেয়া হয়। এরপর দুইটি হাতি ও চারটি ঘোড়া নিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় রাস্তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পরে জাতীয় পতাকা ও সমাবেশ পতাকা উত্তোলন, বেলুন ফেস্টুন উড়ানো, কোরআন তিলাওয়াত, আগত অতিথিদের আসন গ্রহণ, বক্তব্য ও মধ্যাহ্ন ভোজ। এরপর দ্বিতীয় পর্বে মিলন মেলা, সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাতে পটকা আতশবাজী অনুষ্ঠিত হয়। শতবর্ষ পূর্তিতে নওগাঁ কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে একটি শোভাযাত্রা নিয়ে জিলা স্কুলে এসে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নওগাঁ জিলা স্কুল। এখানে শুধু ছেলেদের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। স্কুলটি ১৯১৭ সালে স্থাপিত হয়। সংক্ষিপ্ত ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে নওগাঁয় সম্রাট পঞ্চম জর্জের করোনেশন উপলক্ষে এক উৎসব থেকে সংগৃহীত অর্থ দ্বারা স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সূচনালগ্নে এটি ছিল একটি পাঠশালা। করোনেশন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ তলাপাত্র।দীর্ঘ সময় পর ১৯৪২ সালে এটি ‘হাই ইংলিশ স্কুলে’ রুপান্তির হয়। এরপর ১৯৬১ সালে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক আব্দুর রব চৌধুরী বিএমসি কলেজের মাদরাসা শাখা ও করোনেশন হাইস্কুল একত্রে করে এর নাম দেন ইউনাইটেড হাইস্কুল। ১৯৮৫ সালে ২৭ এপ্রিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচএম এরশাদ নওগাঁয় এক জনসভায় এসে স্কুলটি পরিদর্শন করেন। এরপর স্কুলটি জাতীয়করণ করে ‘নওগাঁ জিলা স্কুল’ নাম হয়। ১৯৬৯ ব্যাচের সাবেক ছাত্র ডা. মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, শতবর্ষ পূর্তিতে আজকের এই দিনের আনন্দ ভাষায় করা সম্ভব নয়। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে স্কুল নিয়ে। অনেক বন্ধু অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে আসতে পারেনি। আবার অনেকেই চির বিদায় নিয়েছেন। যারা বিদায় নিয়েছেন আল্লাহ যেন তাদের জান্নাতবাসী করেন।এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বেগম মাজেদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী, নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশিদুল হক, পৌর মেয়র নজমুল হক সনি প্রমুখ।আব্বাস আলী/এআরএ/এমএস