দেশজুড়ে

হঠাৎ দেবে গেলো বেড়িবাঁধ : এলাকায় আতংক

বাগেরহাটের শরণখোলায় বলেশ্বর নদী তীরে নির্মাণাধীন আধুনিক, উঁচু ও টেকসই বেড়িবাঁধের বগী এলাকার ২৪ কি.মি. পয়েন্ট হঠাৎ দেবে গেছে। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।শনিবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বগী এলাকার ২৪ কি.মি. পয়েন্ট দেবে যায়। ঘটনার পরপরই বাঁধ মেরামত কাজ শুরু করেছে চায়না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তরা। নদী শাসন ব্যবস্থা না করে বড় ধরনের এ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। এর আগেও একাধিকবার বিশাল জায়গা জুড়ে বেড়িবাঁধ দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।          ইতোমধ্যে নদী শাসন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে পাউবো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।          এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই সময়ে বগী স্লুইচ গেট এলাকার ২৪ কি.মি. পয়েন্টের বিশাল এলাকা ফাটল দেখতে পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের খবর দেয়া হয়। এরই মধ্যে দেবে যেতে থাকে ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের ওই এলাকা। এ সময় এলাকাবসীর মাঝে আতংক দেখা দেয়। আস্তে আস্তে দেবে যাবার পরিমাণ বেড়ে যায়। রাত ১১টার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিইআরপি, বিশ্বব্যাংক ও কনসাল্টিং ফার্ম রয়েল হেসকোনি এবং ডেপকনের কর্মকর্তরা সেখানে গিয়ে ৬/৭টি এসকেভেটর দিয়ে রিং বাঁধ দেয়ার কাজ শুরু করে।জানতে চাইলে হেসকোনিনের প্রকৌশলী শ্যামল দত্ত জানান, রিং বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে শরণখোলা বেড়িবাঁধ নির্মাণ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক এম এ রশিদ আকন ও নদী শাসন বাস্তাবায়ন কমিটির সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম জানান, তারা প্রথম থেকেই দাবি জানিয়ে আসছেন নদী শাসন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের। তারা বলেন, সিডরের পর শরণখোলাবাসীকে বাঁচানোর জন্য সরকার প্রায় অর্ধ সহস্র কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু নদী শাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় এর স্থায়িত্ব কতখানি হবে- তা এখন বড় চিস্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদী শাসনের ব্যবস্থা না থাকায় তারা পাউবো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন তারা। শওকত আলী বাবু/এএম/জেআইএম