নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের দায়ের করা মামলার রায় আগামীকাল সোমবার। আদালতের রায়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কার্যালয়ের ভাগ্য নির্ধারিত হবে এদিন। কার্যালয়টি এমনি থাকবে, নাকি বহুতল ভবনের এ কার্যালয়টি আবারো নাসিকের মাধ্যমে ফিরে পাবে সেটা নির্ধারণ করবেন আদালত। গত বছরের ২৬ জুলাই নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত শুনানি শেষে মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন। শুনানিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার অর্ধশত আইনজীবীকে নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন।জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপির নেতারা। গত বছরের ২৬ জুলাই নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জজ আদালতে বিএনপির মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা শুনানি হয়। বিএনপির আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, ভবনটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিএনপিকে বুঝিয়ে দিতে হবে। আর নতুন ভবন করার পর কোনো চার্জ বিএনপি দিবে না। বিএনপিকে উচ্ছেদ করার আগে সিটি কর্পোরেশন বিএনপির সঙ্গে মিটিং করতে হবে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি দাবি আদালতে উত্থাপন করেছেন বিএনপির আইনজীবীরা। ওই শুনানিতে তৈমুর আলমসহ অর্ধশত বিএনপির আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। যেখানে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক আইনজীবী শুনানিতে ছিলেন না। এমনকি জেলা বিএনপি ও নগর বিএনপির শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন না আদালতে। ওই দিন শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বিএনপি কার্যালয় উচ্ছেদের জন্য যে চিঠি দিয়েছে সেই চিঠিটাই অবৈধ। বে-আইনিভাবে আমাদের উচ্ছেদের চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা এ বিষয়টি আদালতকে জানিয়েছি। এছাড়াও আমরা আমাদের কাগজপত্রসহ বক্তব্য আদালতে সুস্পষ্টভাবে আদালতে তুলে ধরেছি।অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকাস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয় ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, আরো আগে থেকেই কাজ শুরু হলে এখন অনেক খানি কাজ শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু বিএনপি অহেতুক মামলা করে কালক্ষেপণ করেছে। জানা গেছে, আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগার সংলগ্ন জেলা বিএনপির কার্যালয়ের ভবন ভেঙে সেখানে ৯ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আরো আগে থেকেই নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও জেলা বিএনপির দায়ের করা একটি মামলার কারণে সেটা বিলম্ব হয়।তবে এর আগে আদালত ওই মামলাটি খারিজ করে দেয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোকান মালিকদের সরে যাওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশন হতে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। জেলা বিএনপি কার্যালয় যে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত তার নিচতলায় সাতটি দোকান রয়েছে। বিএনপির অভিযোগ, তাদের দলীয় কার্যালয়ের পাশে আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগার নির্মাণেই অনেক সময় লেগে যাচ্ছে সেক্ষেত্রে দলীয় কার্যালয়ের ক্ষেত্রে এমনটা হতে পারে। শাহাদাত হোসেন/এআরএ/এমএএস/পিআর