দেশজুড়ে

চেয়ারম্যানের ‘ভাগ্নে বাহিনী’র পিটুনিতে ব্যবসায়ী নিহত

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কেওঢালা এলাকায় মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগ নেতা এমএ সালামের ‘ভাগ্নে বাহিনী’র হামলায় আহত ব্যবসায়ী হাজী মনির হোসেন তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা গেছেন।রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানী ঢাকার বারডেম হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন থাকা হাজী মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন থাকা হাজী মনিরকে ক্লিনিক্যাল ডেড ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এতে করে হত্যার উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত মামলাটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হয়েছে। ওসি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এ মামলায় প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময়ে বন্দর উপজেলার কেওঢালা এলাকায় সিগারেট কেনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান সালামের ভাগ্নে বাহিনীর হামলায় হাজী মনির হোসেন, তার ছোট ভাই মুদি দোকানি শফিকুল ইসলাম, মকবুল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইদুর রহমান, রেণু বেগম, ফজলুল হক, ইসমাইলসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। যার মধ্যে হাজী মনিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাকে রাজধানী ঢাকার ট্রমা হাসপাতালে ও পরবর্তীতে বারডেম হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। ৭২ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পরে রোববার রাতে তাকে তার মৃত্যু হয়।কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেওঢালা এলাকার মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। হামলায় শফিকুল ইসলাম ও তার ভাই মনির হোসেনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘঠনায় কয়েকজনকে তখন আটক করা হয়। নিহত মনির হোসেনের ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ভাই হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় থাকা সত্যেও আমাদের বিরুদ্ধে থানায় উল্টো মামলা নিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার আসামির মধ্যে দুইজনকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। ফলে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।শাহাদাত হোসেন/এএম/পিআর