শেরপুরের নকলা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে গেজেটভুক্ত আপত্তি ও নতুন করে আবেদনকারীসহ ৯৪ জনের মাঝে ১৯ জনকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বলে শনাক্ত করেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি। তিন দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি মঞ্জুরকৃত, দ্বিধাবিভক্ত ও না-মঞ্জুরকৃতদের তালিকা প্রকাশ করে।নকলা ইউএনও কার্যালয়ের নোটিস বোর্ডে লাগানো তালিকায় দেখা যায়, নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হওয়ার ৭৫টি আবেদন ও পূর্বে গেজেটভুক্ত ১৯ জন অভিযুক্তের ব্যাপারে ছয় সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটি ১৯ জনের ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে একমত হয়েছেন।যাচাই-বাছাই কমিটির তথ্য মতে, অনলাইনে ৬৩টি ও ১২ জন সরাসরি আবেদন করেন। আবেদনকৃত ৭৫ জন এবং অভিযুক্ত ১৯ জনসহ মোট ৯৪ জনের মধ্যে যাচাই-বাছাই চলে। ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের তালিকাটি নোটিস বোর্ডে টানানো হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জন দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ৮ জন এবং নতুন করে ১১ জন যাচাই-বাছাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেছে যাচাই-বাছাই কমিটি। এছাড়া ধনাকুশা গ্রামের মো. আনছার আলী, মো. তোফাজ্জল হোসেন ও মো. মোফাজ্জল হোসেন এ তিনজনের ব্যাপারে দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্তের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ও নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আবুল মুনসুর জানান, নতুন করে আবেদনকারী যে ১১ জনের ব্যাপারে কমিটি একমত হয়েছে তারা আসলে ভুলক্রমে আবেদন করেছেন। তারা আগে থেকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও মুক্তিবার্তার তালিকাভুক্ত হওয়ায় গেজেটভুক্ত রয়েছেন। তাদের কোনো সমস্যা নেই। বিষয়টি আমরা মন্তব্যের কলামে পরিষ্কার করে লিখে দিয়েছি।নকলা উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা তালিকা প্রস্তুত করে নোটিস বোর্ডে ঝুলিয়ে দিয়েছি। এই তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। নকলা উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তথ্যমতে, বর্তমানে নকলায় ৩২২ জন মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। হাকিম বাবুল/এএম