দেশজুড়ে

অকালেই চলে গেল মিথিলা

টিচার আমি ব্যাঙ দৌড়ে প্রথম হয়েছি, আমার পুটিচার আমি ব্যাঙ দৌড়ে প্রথম হয়েছি, আমার পুরস্কারটা কই? এ কথাটি বলতে আর আসবে না ছোট্ট মিথিলা। কখনো বলবে না টিচার তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে। তোমার জন্য চকোলেট এনেছি, নেবে? ঘাতক একটি টমটম (ইজিবাইক) ফুটফুটে মিথিলার কণ্ঠরোধ করে স্কুল থেকে চির ছুটি দিয়েছে। মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে মিথিলা এবার কক্সবাজার কেজি অ্যান্ড মডেল হাই স্কুলের নার্সারিতে ভর্তি হয়েছিল। এবং অল্প ক’দিনেই মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে মন জয় করেছিল শিক্ষকদের। শুক্রবার বাবার সঙ্গে চুল কাটতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না তার। কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ গেটের কানায়াবাজার এলাকায় রাস্তা পার হতে গিয়ে একটি দ্রুতগতির টমটম তাকে ধাক্কা দেয়। এতে মাধায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে নাক ও মুখ থেকে অনবরত রক্ত বের হতে থাকে মিথিলার। তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে নিথর হয়ে যায় একটি অপার সম্ভাবনাময়ী তাজা প্রাণ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মিথিলার লাশ কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা গাড়ির মাঠ ৪নং গলিতে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, মিথিলার বাবা মোহাম্মদ রুহুল আমিন লক্ষীপুরের কমল নগরের বাসিন্দা। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে শহরের গাড়ির মাঠে ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। স্বপ্ন ছিল মেয়েকে ভালো স্কুলে পড়িয়ে মানুষের মতো মানুষ করবে। কিন্তু মিথিলাকে শিশুকালই পার হতে দেয়নি ঘাতক টমটম। মিথিলার লাশ গাড়ির মাঠে পৌঁছালে তাকে এক নজর দেখতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে. এম রমজান আলী ও পরিচালানা কমিটির সদস্য শাহিনুল হক মার্শাল, মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম হোসাইনী, প্রাথমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক হামিদা পারভীনসহ সকলে ছুটে যান এবং মিথিলার লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রধান শিক্ষক কে.এম রমজান আলী জানান, ঘাতক টমটম চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগামী সোমবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, অদক্ষ আনাড়ি চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে অকালেই অসংখ্য মিথিলার তাজা প্রাণ ঝরে পড়ছে। আর প্রশাসন এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে নানা বৈঠকে বললেও তা কেবল বক্তব্য হিসেবেই থাকছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। ঘাতকদের বিরুদ্ধে ববস্থা নেয়া হবে। আমরা ইতোমধ্যে অবৈধ টমটম চলাচল রদ ও অদক্ষ চালক নিষিদ্ধের প্রকল্প চালু করেছি। শিগগিরই এর সুফল পাবে পৌরবাসী।সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/জেআইএম