দেশজুড়ে

ইউএনও’র বিরুদ্ধে জাল দলিলে জমি বিক্রির অভিযোগ

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে জাল দলিল করে এক ব্যক্তির জমি বিক্রিতে মধ্যস্থতা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে জমির মালিক মোল্লাহাট উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের মনিজিলা গ্রামের প্রয়াত বসন্ত মণ্ডলের ছেলে ভঞ্জণ মণ্ডল গত বুধবার তার পৈত্রিক জমি রক্ষায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।লিখিত আবেদনে ভঞ্জণ মণ্ডল উল্লেখ করেন, চার-পাঁচদিন আগে লোক মারফত জানতে পারি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোল্লাহাট, বাগেরহাটের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ দালাদ চক্র আমার (মুনিজিলা মৌজার হাল দাগ নং- ১৭৮৯, ১৭৯০) জমি বিক্রির জন্য দলিল প্রস্তুত করেছে। গত ২৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ইউএনও আমার বাড়ি এসে প্রশ্ন করেন আপনি নাকি জমি বিক্রি করবেন? আমি উত্তরে বলি বিক্রি করব না এবং এ ব্যাপারে আমি কারো সাথে কোনো আলোচনাও করিনি।এরপর ইউএনও আমার ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি চান। আমি এগুলো দেয়ার পর ইউএনও ওনার মোবাইলে ছবি ও ভোটার আইডি তুলে নিয়ে যান।লিখিত অভিযোগে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমার ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি দিয়ে জাল দালিল হয়েছে কিনা, সে জন্য আমি এবং আমার পরিবার এবং স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় খুবই শঙ্কিত ও চিন্তিত।জাল দলিলে জমি বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে কোদালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মো. আকাশ বলেন, বাগেরহাট-মাওয়া মহাসড়কের পাশে জমির মূল্য বেশি হওয়ায় স্থানীয় একটি চক্র অনেক দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার হিন্দুসম্প্রদায়ের জমি জাল করে বিক্রির চেষ্টা করে আসছে। এর আগেও এই এলাকায় হিন্দুদের একটি জমি জাল করে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। হাড়িদা গ্রামের যুগল বাবুর ভাই হিমাংস গাছির জমি জাল করে বিক্রির ওই ঘটনায় বর্তমানে একটি মামলা রয়েছে।এ ব্যাপারে মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম হাসান বলেন, আমার এক পরিচিত ব্যক্তি ওই জমিটি কিনতে চেয়েছেন। পরে আমি জানতে পারি জমির মালিক ভঞ্জণ ওই বিক্রি করবেন না। বিষয়টি জানতে পেরে যারা জমি বেচা-কেনা করছিলেন আমি তাদেরকে বলি বিক্রির সময় আমি কিন্তু থাকবো। এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ওই ব্যক্তিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের আইনি সহায়তা দেয়া হবে।শওকত আলী বাবু/এএম/পিআর