বদলগাছীতে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটায় দিন দিন কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। জমির মালিক মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিয়েছে। এসব ব্যবসায়ীরা গভীর করে জমি থেকে বালু উত্তোলন করছে। এরপর রাস্তার ঠিকাদার অথবা ইট ভাটায় বিক্রি করছে। গভীর করে জমি থেকে বালু উত্তোলন করায় আসে পাশে ফসলি জমিগুলো ধস দেখা দিয়েছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন উপজেলাবাসী। প্রায় ১ মাস থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এতে পাশের উঁচু জমি ভেঙে নিচু হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া উপজেলার বিশেষ করে পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর, রনাহার, গর্ন্ধবপুর ও পাঁচঘরিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে মাটি বহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টর চলাচলে এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থাও বেহাল।এদিকে, এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য রাস্তাঘাট অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্বল্পদামে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইট ভাটা ও ভরাট কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বেশির ভাগ এখন ফসলি জমির মাটি ইট ভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার কসবা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি থেকে মাটি কেটে থেকে গভীর করে বালু উত্তোলনে শত শত বিঘা ফসলি কৃষি জমি বিলীন হতে চলেছে।উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের চকআধাইপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ফসলি জমিতে পুকুর খননের জন্য ১২ কাটা জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু ব্যবসায়ী নুরুনবীর কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। পুকুর খনন করতে যে টাকা খরচ হতো আমাকে আলাদা করে আর দিতে হচ্ছে না।বালু ব্যবসায়ী নুরুনবীর বলেন, তোফাজ্জল হোসেনের জমি থেকে বালু উত্তোলনে রাস্তার ঠিকাদারদের কাছে বিক্রির জন্য বন্দোবস্ত করে দিয়েছি। উপজেলার ভান্ডারপুর বালুপাড়া হইতে রুকুপুর রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিমু বলেন, নদীর বালু মহলের কাছে থেকে চড়া দামে বালু কিনে কাজ করতে গিয়ে আমাদের লোকসান হতে পারে। এ জন্য আমরা কমমূল্যে বালু নিয়ে রাস্তার কাজে ব্যবহার করছি। পাঁচঘরিয়া গ্রামের তছির উদ্দিন বলেন, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার এখন মহোৎসব চলছে। এসব মাটি বহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টর চলাচলে এলাকার রাস্তা ঘাটের অবস্থা বেহাল হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, জমির মালিকেরা যদি তাদের কৃষি জমিতে পুকুর খনন করে তাহলে আমার করার কিছু নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইচ্ছা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন শওকত বলেন, যদি ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে তাহলে জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আব্বাস আলী/এএম/জেআইএম