টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দীর্ঘদিন যাবত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পল্লীবিদ্যুতের ছয়টি খুঁটি। ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিগুলো মসজিদ, বিদ্যালয় এবং ব্যস্ততম সড়কের ওপর থাকলেও বিষয়টি পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না। এলাকাবাসী পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে দুই দফায় টাকা জমা এবং একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।ঝুঁকিপূর্ণ এই খুঁটি থেকে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।পল্লীবিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ঘুঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ সংলগ্ন একটি, মির্জাপুর-বালিয়া-উয়ার্শী সড়কের পৌর এলাকার রাজনগর অংশে একটি, ভাওড়া ইউনিয়নের রাজনগর অংশে তিনটি এবং ভাওড়া নয়াপাড়া গ্রামের বাঁকে একটি। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘুঘি গ্রামের মসজিদের দোতলার ভেতর দিয়ে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুতের মেইন লাইনের তার টাঙানো হয়েছে। এই ঝুঁকির মধ্যেই চলছে মসজিদটির নির্মাণ কাজ। এছাড়া বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে টাঙানো হয়েছে মেইন লাইনের তার। বিদ্যুতের তার কালো টেপ ও সাইকেলের টায়ার দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পল্লীবিদ্যুতের লোকজন টাঙিয়ে রেখেছে। শুধু তাই নয় খুঁটিটি একটি গাছের গুড়ি দিয়ে ঠেকা দিয়ে রাখা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। যেকোনো সময় এই ঝুকিপূর্ণ তার থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী জানান।ঘুঘি মসজিদের মোয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন ও পরিচালনা পরিষদের সদস্য হাজী বদর উদ্দিন বলেন, মসজিদের দু’তলার ওপর দিয়ে টানানো তার ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের খুঁটিটি স্থানান্তরের জন্য প্রায় তিন বছর আগে দু’দফায় দুই লাখ ১৫ হাজার টাকা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। তারপরও পল্লীবিদ্যুৎ অফিস খুঁটিটি স্থানান্তর করেনি। অপরদিকে মির্জাপুর-বালিয়া-উয়ার্শী সড়কের নবনির্মিত রাস্তাটির রাজনগর ও ভাওড়া নয়াপাড়া এলাকায় নির্মাণ কাজ শেষ হলেও রাস্তার ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচটি বৈদুতিক খুঁটি। প্রত্যেক খুঁটি থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহ চলমান রয়েছে। খুঁটিগুলো থেকে প্রায় ত্রিশটি বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগও দেয়া হয়েছে।ঘুঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিশির কান্তি চক্রবর্তির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে বিদ্যুতের মেইন তার টাঙানো হয়েছে। তাও আবার সাইকেলের টায়ার দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ওই সড়কে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক শাহিন মিয়া, নেপাল রাজবংশী, মামুন মিয়া ও সোহেল মিয়া, সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক আলামিন খান, পারভেজ মিয়া বলেন, সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি থাকার কারণে সব সময়ই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। ওই দুটি স্থানের মধ্যে রাজনগর এলাকা দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানো গেলেও চার চাকার যান চলাচল করতে অসুবিধা হয়। তাছাড়া খুঁটির অপর পাশে সড়কের এক তৃতীয়াংশের মধ্যে স্থানীয়রা লাকরি, খর রোদে দেয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করতে হয়। রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা মির্জাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা ইউসুফ বলেন, সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটিটি দ্রুত সরানো দরকার। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।নয়াপাড়া গ্রামের নাছির উদ্দিন ও ইসমাইল হোসেন বলেন, সড়কের বাঁকা অংশে অধিগ্রহণ করা জমিতে খুঁটি এবং ওই খুঁটি থেকে মিটার সংযোগ থাকায় খুঁটি সরানোর জন্য পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। তাছাড়া রাস্তার উন্নয়ন কাজও এলাকাবাসী বন্ধ করে রাখে। তারপরও খুঁটি সরানো হয়নি। বাঁকের মধ্যে সড়কের মাঝখানে ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটির সঙ্গে যানবাহনের সংঘর্ষে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।পল্লীবিদ্যুৎ মির্জাপুর অফিসের ডিজিএম সুশান্ত কুমার রায় বলেন, বিদ্যালয় ও মসজিদের সামনের খুঁটিটি স্থানান্তর করতে পরপর তিনবার ঠিকাদার পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের দ্বন্দের কারণে খুঁটিটি স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া মির্জাপুর-বালিয়া-উয়ার্শী পাকা সড়কের উপর খুঁটিগুলো সরানোর ব্যয়ভার সড়ক ও জনপথ বিভাগ বহন করার কথা। সড়ক ও জনপথ অফিসের কর্তৃপক্ষ বরাবর খুঁটি সরানোর জন্য টাকা জমা দিতে একাধিকবার বলা হয়েছে। টাকা জমা না হওয়ায় পল্লীবিদ্যুৎ মির্জাপুর অফিস কাজ করতে পারছে না।মির্জাপুর সড়ক ও জনপথ উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ওই সড়কের সম্পূর্ণ অংশের কাজ শেষের দিকে। যে অংশের কাজ শেষে হয়েছে, সেই অংশে থাকা খুঁটিগুলো সরানোর জন্য পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।এস এম এরশাদ/আরএআর/জেআইএম