দেশজুড়ে

যশোরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাগজ জালিয়াতি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশের স্মারক জালিয়াতি করে যশোরের কেশবপুরে তিন প্রধান শিক্ষককে পদোন্নতি দেয়ার প্রমাণ মিলেছে। একইসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্মারক জালিয়াতি করে দুই শিক্ষককে বদলির প্রমাণও পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ ঘটনায় সোমবার কেশবপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার) শেখ মিরাজুল আশরেকীনকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। জালিয়াতির মাধ্যমে পদোন্নতি পাওয়া তিন প্রধান শিক্ষক হলেন, কেশবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস পারভীন, গৃধরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. হাজিরা খাতুন ও নেহালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমএম মশিউর রহমান। এছাড়াও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্মারক জালিয়াতি করে কেশবপুর উপজেলার আগরহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক দীপা রাণী আইচ ও গড়ভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামানকে বদলি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেশবপুরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মিরাজুল আশরেকীন বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর দাফতরিক নিদের্শনা বাস্তবায়ন করেছি। ওই চিঠি জালিয়াতি করা হয়েছে কিনা আমি জানি না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জালিয়াতির বিষয়ে তদন্তের জন্য সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০১৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এই তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে তিন প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি ও দুই সহকারী শিক্ষকের বদলি জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কেশবপুরের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার) শেখ মিরাজুল আশরেকীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বদলির জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। সর্বশেষ গতকাল ওই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামি দশ (১০) কর্ম দিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখার স্মারক নং ৩৮.০০৭.০০৮.০০.০০.০০২.২০১৫-২৪৪৮ অফিস আদেশে টেম্পারিং করে তিনজন শিক্ষককে পদোন্নতি দেয়া হয়। অথচ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই অফিস আদেশে বলা হয়- সেপ্টেম্বর/২০১৩ মাসের এমপিও অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতনের সরকারি অংশ ছাড় করা হয়েছে। অথচ জাতীয়করণের সময় সহকারী শিক্ষক হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছে এরূপ শিক্ষকদের মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের সুপারিশ অনুযায়ী সাতজন শিক্ষকের পদবী প্রধান শিক্ষক হিসেবে সংশোধন করা হলো। তবে ওই তালিকায় যশোরের কোনো শিক্ষকের নাম ছিল না। অথচ মন্ত্রণালয়ের এই স্মারকটি জালিয়াতি করে সাতজনের স্থলে যশোরের কেশবপুরের আরও তিনজন শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিষয়টি কোনোরূপ যাচাই বাছাই না করে কেশবপুরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মিরাজুল আশরেকীন ওই তিন শিক্ষককে সকল প্রকার আর্থিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করেন।এছাড়াও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্মারক জালিয়াতি করে দুইজন সহকারী শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। গত ২০১৬ সালের ১০ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্মারক নং-জেপ্রাশিঅ/যশোর/সশিনি-২০১০(প্যানেল শিক্ষক/২০১৬/২২২৩) অফিস আদেশে শিক্ষকগণের নিয়োগ সম্পর্কিত পত্র টেম্পারিং করে দুইজন (২) শিক্ষকের জন্য নির্ধারিত বিদ্যালয়/ ব্যক্তির নাম পরিবর্তন করে নিজের মত পদায়ন করা হয়েছে। তবে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর জালিয়াতি করে পদোন্নতির আদেশে সাতজনের স্থলে যশোরের তিনজন শিক্ষকের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। অথচ মন্ত্রণালয়ের মূল আদেশে এদের নাম নেই। তবে কারা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সেটি সনাক্ত করতে পারিনি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারী বলেন, স্মারক নম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে পদোন্নতি ও বদলির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অধিকতর তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।   মিলন রহমান/এফএ/আরআইপি