২০১৫ সালের ২৫ মে কুমিল্লা টাউন হলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লাকে বিভাগ করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর পেরিয়ে যায় অনেক সময়। আশ্বাসের পরও মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে ‘কুমিল্লা’ বিভাগের নাম কুমিল্লার পরিবর্তে ‘ময়নামতি’ করায় পরিকল্পনামন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয়ে কুমিল্লার সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে। দেশের প্রাচীনতম ও বৃহৎ জেলা ‘কুমিল্লা বিভাগ’ নাম বাদ দিয়ে ‘ময়নামতি বিভাগ’ নামে প্রস্তাবিত বিভাগ ঘোঘণা না করার দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা মহানগরীর টাউন হল মাঠের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন জেলার সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক সমাজ। জানা যায়, মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের পর পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, “প্রস্তাবিত ‘কুমিল্লা’ বিভাগের নাম ‘ময়নামতি’ নামেই নামকরণ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।” বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো জেলার নামে আর বিভাগের নাম এক হবে না, নতুন নামকরণ করা হবে।’ এ ঘোষণার পরপরই ফুঁসে ওঠে কুমিল্লার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিকেল ৫টায় নগরীর কুমিল্লা টাউন হলের প্রধান ফটকে ‘কুমিল্লা’ নামে বিভাগের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরফানুল হক রিফাত, রোটারিয়ান দিলনাশি মোহসেন, বীরচন্দ্রনগর মিলনায়তনের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীর, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম রতন, সাংবাদিক মাসুক আলতাফ চৌধুরী, অশোক বড়ুয়া, কাজী এনামুল হক, দেলোয়ার হোসেন জাকির, জাহিদুর রহমান প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা কুমিল্লা বিভাগের পরিবর্তে অন্য কোনো নাম হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির কুমিল্লার সাবেক আহ্বায়ক বদরুল হুদা জেনু জানান, কুমিল্লার রাজনীতিবিদদের ঐক্যহীনতার সুযোগে হয়তো এটা করা হচ্ছে, কুমিল্লার ইতিহাসকে আড়াল করতে ও নিজেদের স্বার্থে একটি কুচক্রী মহল চেষ্টা চালাচ্ছে। ওই মহলটিই ময়নামতি নামে বিভাগ সমর্থন করছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের যেখানে বিভাগ করা হয়েছে, তা জেলার নামেই হয়েছে, এখন কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে কারও ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তা তিনি খতিয়ে দেখার দাবি জানান। কুমিল্লা নাগরিক ফোরামের সভাপতি কামরুল আহসান বাবুল বলেন, ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকভাবে কুমিল্লা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ একটি প্রাচীনতম জেলা। তাই বিভাগের নাম কুমিল্লা বিভাগ না হয়ে অন্য কোনো নাম হলে সচেতন কুমিল্লাবাসী তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমরা চাই দেশের অন্যান্য বিভাগের মতো এ বিভাগের নাম হবে, অন্যথায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে। কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ মো. ওমর ফারুক বলেন, কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লা বিভাগ হতে হবে, অন্য কোনো নাম আমরা কুমিল্লাবাসী গ্রহণ করবো না এবং বরদাস্ত করবো না। এ ব্যাপারে কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। কুমিল্লার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের চিহ্নিত করুন, ঘৃণা করুন এবং প্রতিহত করুন।কামাল উদ্দিন/এআরএ/জেআইএম