দেশজুড়ে

‘কুমিল্লা’ নামে বিভাগ ছাড়া ঘরে ফিরবে না জনতা

‘কুমিল্লা’ নামে বিভাগ ছাড়া ঘরে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবাদী জনতা। এ দাবিতে রোববার দিনব্যাপী কুমিল্লা জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে এ ঘোষণা দেয় প্রতিবাদী জনতা।এরই মধ্যে কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবিতে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসেও পালিত হচ্ছে প্রতিবাদী কর্মসূচি। ধীরে ধীরে কঠোর আন্দোলনে রূপান্তরিত হচ্ছে জনতার দাবি। তাদের মতে, ‘ময়নামতি’ জেলার বুড়িচং উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম, তাই কুমিল্লার হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ম্লান করে একটি ইউনিয়নের নামে বিভাগ হবে- এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। রোববার কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ করেছে কুমিল্লা নাগরিক ফোরাম। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি কামরুল আহসান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান, আবুল কাশেম হৃদয়, এটিএম হুমায়ুন কবীর, মাহমুদুল হক পিটারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ-কুমিল্লা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও কুমিল্লা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা, মহানগর ক্লাব, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা পরিষদ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি, ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা ব্যবসায়ী সংগঠন, কুমিল্লা যুব ফোরাম, দেবিদ্বার উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে দেবিদ্বার প্রেসক্লাব, সচেতন কুমিল্লাবাসী, কুমিল্লার সচেতন ছাত্র সমাজ, আমরা কুমিল্লার সন্তান, সোনালী অতীত ক্লাব ছাড়াও জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীসহ প্রায় অর্ধশত সংগঠনের উদ্যোগে ‘কুমিল্লা’ নামে বিভাগের দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী খন্দকার মোশতাক আহমেদের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দশপাড়া গ্রামের বাড়িটি অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে প্রতিবাদী জনতা।রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দলীয় নেতৃবৃন্দ দশপাড়ায় যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ রাস্তায় ব্যারিকেড দিলে প্রতিবাদী লোকজন শহীদনগর উত্তর বাজারে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন, দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবিব লিল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সালাম, মেঘনা উপজেলা চেয়ারমান আবদুস সালাম, দাউদকান্দি পৌর মেয়র আবু নাঈম সেইন, দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত সাবেক রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির দশপাড়ায়। তাই হয়তো বঙ্গবন্ধু কন্যা ‘কুমিল্লা’ নামের প্রতি নাখোশ হয়ে প্রস্তাবিত বিভাগের নাম ‘ময়নামতি’ করার জন্য মত দিয়েছেন। কিন্তু দুই কলঙ্কিত ব্যক্তির পাপের জন্য এমনটি করা হলে কুমিল্লাবাসীর প্রতি অবিচার করা হবে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা অবিলম্বে খন্দকার মোস্তাকের বাড়ি ওই এলাকা থেকে অপসারণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ি অপসারণের জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মিছিল নিয়ে দশপাড়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বার্থে তাদের শহীদনগর এলাকায় আটকে দেয়ায় সেখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে তারা।মো. কামাল উদ্দিন/জেআইএম