দেশজুড়ে

‘ঘরের দরজা বন্ধ করে গান রেকর্ড করে বেতারে পাঠাতাম’

বাবা ছিলেন সংগীত প্রিয় ও সাংস্কৃতিবাদী ব্যক্তিত্ব। তিনি কোনো অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন না করলেও বাসায় বসে গান গাইতেন। তার কারণে ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। বাংলা ফিল্মে প্রথম গান পরিবেশন করি ১৯৬০ সালে। তখন পূর্ব বাংলা (পূর্ব পাকিস্তান) বেতারে গান পরিবেশন করতাম। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ৩১ বছর। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে স্বাধীনতায় উজ্জীবিত করতে আমার কাছে জাগরণী গান চাওয়া হয়। তখন আমি এবং আলতাফ মাহমুদ আমার বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করে গান রেকর্ড করে বেতারে পাঠাতাম। অনেক ঝুঁকি ছিলো, তার মধ্যেও দুঃসাহসী পদক্ষেপ নিয়ে গান রেকর্ড করে পাঠাতাম। পাক-হানাদার বাহিনী আলতাফ মাহমুদকে চিনতে পেরে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমি কৌশল অবলম্বন করে প্রাণে বেঁচে যাই। কিন্তু দেশ-মাতৃকার প্রেমে জাগরণী গান তৈরি ও রেকর্ড করে বেতারে পাঠাই। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও তার ঘনিষ্ঠ সহচর শহীদ আলতাফ মাহমুদের স্মৃতিচারণ করে এসব কথা বলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আধুনিক গানের জীবন্ত কিংবদন্তি ও স্বাধীন বাংলা বেতারের অন্যতম শীর্ষ শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের ৫০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান সংগীত পরিবেশক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ঝালকাঠি শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে শনিবার রাতে সৈয়দ আব্দুল হাদীর সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় সার্কিট হাউসে প্রতিবেদকের সঙ্গে কণ্ঠশিল্পীর কথা হয়।এ সময় তিনি বলেন, ১৯৪০ সালের ১ জুলাই ত্রিপুরার আগরতলায় আমার জন্ম। নানা আগরতলা আদালতের আইনজীবী হওয়ার সুবাদের ওখানের ভাড়াটিয়া বাসায় আমার বেড়ে উঠা।বাবা-মায়ের চেয়ে নানা-নাতির সাথে সখ্যতা ছিলো বেশি। কুমিল­ার সন্তান কালেক্টরেট কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুল হাইয়ের ৫ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তানের মধ্যে আমি সবার বড়। সৈয়দ আব্দুল হাদী ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। মো. আতিকুর রহমান/এএম/জেআইএম