দেশজুড়ে

শহীদ মিনারে হাঁস-মুরগির হাট : সন্ধ্যায় মাদকের আসর

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে উত্তর পাশে অবস্থিত শহীদ মিনারটি এক যুগ ধরে অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। এ অবস্থায় এলাকার নতুন প্রজন্ম শহীদ মিনারের তাৎপর্য ভুলতে বসেছে। একাধিকবার আবেদন করার পরও ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারটির সংস্কার করা হয়নি।এছাড়া শহীদ মিনার চত্বরে সোমবার হাঁস-মুরগী ও কবুতরের হাটও বসে। আর প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এটি পরিণত হয় বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকালাপ এবং মাদকের আসর। ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমেছে এর ভীতরে। শহীদ মিনার চত্বরের ভিতরে শুভেচ্ছা স্বরূপ বিলবোর্ডও লাগিয়েছেন নওগাঁ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কার্ভাডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম। জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয় শহীদ মিনারটি। ২০০৩ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষে উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তবে ২০০৬ সালে ২৮ অক্টোবর ভেঙে ফেলা হয় শহীদ মিনারটি। এরপর অবহেলিত শহীদ মিনারটি পুনর্নির্মাণে আর কেউ এগিয়ে আসেননি। বর্তমানে এটি ভেঙে-চুরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ২০০০ সাল থেকে পৃথিবীর সব দেশ এ দিবসটি আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেব পালন করে আসছে। অথচ ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারটির এ অবস্থা দেখে শিক্ষার্থীসহ জনমনে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।স্থানীয় বাসীন্দা সাজেদুর রহমান, জুয়েল রানা, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক উদ্দীন জানান, প্রায় ১২ বছর ধরে শহীদ মিনারটি এমন অবস্থায় ভেঙে পড়ে আছে। প্রতিনিয়ত উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরবন্দি হলেও শহীদ মিনারটি সংস্কার করতে কেউ এগিয়ে আসেননি। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ বলেন, ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারটি ২১শে ফেব্রুয়ারির আগে সংস্কারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় তা সময় মত সংস্কার করা যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।আব্বাস আলী/এফএ/পিআর