জামালপুর জেলা কারাগারে নারী বন্দিদের আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রায় তিন বছর আগে নারী ওয়ার্ডটি পরিত্যক্ত হওয়ায় এখানকার বন্দিদের থাকতে হচ্ছে পাশ্ববর্তী শেরপুর কারাগারে। আদালত থেকে জামিনের পরই মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও দাপ্তরিক জটিলতার কারণে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে সময় লাগছে ৫ থেকে ৭ দিন। আর এতে করে নারী বন্দিদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলে মনে করেন আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা।হরিজন সম্প্রদায়ের চামেলী রানী ও তার শ্বাশুড়ি মীনা রানী। সম্প্রতি মাদকদ্রব্য আইনের একটি মামলায় আদালত তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করে। নিয়ম অনুযায়ী এই দুই নারী বন্দিকে জামালপুর কারাগারে রাখার কথা থাকলেও নারী ওয়ার্ডটি পরিত্যক্ত হওয়ায় তাদের রাখা হয় পাশ্ববর্তী শেরপুর কারাগারে। পরবর্তী সময়ে আদালত চামেলী ও মীনা রানীকে জামিনে মুক্তির আদেশ দিলেও দাপ্তরিক জটিলতায় জামালপুর কারাগার থেকে আদালতের আদেশ কপি শেরপুর কারাগারে পৌঁছাতে সময় লাগে ৫ দিন। এতে করে জামিনের আদেশ পাওয়ার পরও কারাগার থেকে ৫ দিন পর মুক্তিপান এই দুই নারী বন্দি। চামেলী ও মীনা রানীর মতো জামালপুরের মহিলা বন্দিদের ভোগান্তি কমবেশী একই রকম। ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জামালপুর জেলা কারাগারের অফিস ভবনসহ সবগুলো ওয়ার্ডই জরাজীর্ণ। এই কারাগারের নারী ওয়ার্ডটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে বসবাসের অযোগ্য হলে ২০১৪ সালে গণপূর্ত বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই এই জেলার নারী বন্দিদের দুর্ভোগ শুরু হয়। নারী বন্দিরা জামিন পেলে জামালপুর কারাগার থেকে জামিনের কাগজ ডাকযোগে পাঠানো হয় শেরপুরে। ফলে জামিন পাওয়ার পরও নারী বন্দিদের মুক্তি পেতে সময় লেগে যায় ৫ থেকে ৭ দিন। শুধু মনারী বন্দিরাই নয় তাদের স্বজনরাও নানা ভোগাান্তির শিকার হচ্ছেন।জামালপুর থেকে পার্শ্ববর্তী শেরপুর জেলা কারাগারে বন্দি স্বজনদের দেখতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয় তাদের। স্লিপ কেটে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে সাক্ষাৎ মিলে। কিন্তু সাক্ষাৎকক্ষের অপর্যাপ্ত পরিসরের কারণে কথা বলা দুষ্কর হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পাইয়ে দিতে স্বজনদের কাছ থেকে নেয়া হয় বাড়তি টাকা। চামেলী ও মীনা রানীর আইনজীবী ইউসুফ আলী জানান, জামালপুর কারাগারে আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় নারী বন্দিদের শেরপুর কারাগারে রাখায় জামিন পাওয়ার পরও মুক্তি পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে করে বন্দিরা শুধু দুর্ভোগে পড়ছেনা, চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে তাদের মানবাধিকার। মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, আইনের সংস্পর্শে থাকা নারী বন্দিদের জামিনের পরও বিলম্বে মুক্তি পাওয়াটা মানবাধিকার লঙ্ঘন। তাই জামালপুর কারাগারে যতো দ্রুত সম্ভব নারী ওয়ার্ড তৈরি করা জরুরি। জামালপুর জেলা কারাগারের জেলার মো. আব্দুল্লাহ ইবনে তোফাজ্জল হোসেন খান নারী ওয়ার্ড না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, জামালপুর কারাগারে নতুন নারী ওয়ার্ড স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরেই নারী বন্দিদের ওয়ার্ড তৈরির কাজ শেষ হবে। আর তা হলে দুর্ভোগও লাঘব হবে। এমএএস/পিআর