বংশাই, লৌহজং ও ধলেশ্বরী নদী ঘেরা টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলা। এ উপজেলায় ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর পৌরসভা ও ২০১৬ সালের ২৮ মে পঞ্চম ধাপে ৮টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৬ এপ্রিল বাকি ৬ ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একক প্রার্থী বাছাইয়ে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ শনিবার ও রোবাবার দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছেন। দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন রোববার বিকেল পর্যন্ত ৬ ইউপিতে ২৫ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।আগামী (১৪ মার্চ) মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন, উপজেলা ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক মিলে ৬ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাতকার গ্রহণ করবেন। সবকটি ইউপিতেই একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তারা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান ও নবীন-প্রবীণ চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ২৫ জন প্রার্থী মাঠে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এ যেন নির্বাচনের আগে আরেক নির্বাচন। যে কোনো মূল্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাই। এমন মনোভাব নিয়ে ঢাকায় ও টাঙ্গাইলে গিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের দ্বারে দ্বারে ধরণা দিচ্ছেন এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আগামী ২০ মার্চ। ২১ মার্চ বাছাই ও ২৮ মার্চ মনোনয়পত্র প্রত্যাহারের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৯ মার্চ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। ১৬ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন। মির্জাপুরের ৬ ইউপিতে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন তারা হলেন, তরফপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরকার, আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মোল্লা, আব্দুল বাছেদ মিয়া, ইজ্জত আলী জনি, ইউনিয়ন আজগানা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম শিকদার, মীর লতিফ মাহমুদ, আব্দুল কাদের, মো. শহিদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আল আজাদ, এম এ কদ্দুস, লতিফপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, মো. আরিফ হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন, আজিজুর রহমান, বহুরিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সাইদ সাদু, রেজাউল করিম, আবুল কালাম আজাদ চাঁনমিয়া, ফতেপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ুন তালুকদার, ইউনিয়ন ওলামালীগের সভাপতি হাফেজ মাওলানা কামরুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ ও ভাওড়া ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান তোতা মিয়া, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন, কামরুল হাসান, হাফিজুর রহমান, আবুল কাশেম সিদ্দিকী। এছাড়া প্রার্থীরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন এমপির বাসভবনে কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান করছেন। দিন-রাত অবিরাম প্রার্থীরা নিজ সমর্থক ও নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকা, নেতাদের অফিস এবং বাসায় বাসায় দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন মাধ্যমে লবিং করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতেরও চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ। তাছাড়া এ উপজেলার প্রবীণ নেতা সাবেক সাংসদ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ফারুকের দিক নিদর্শেনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তাই এ দলের প্রার্থীরা অনেকটাই দিশেহারা হয়ে সব নেতাদের কাছেই দৌড়ঝাঁপ করছেন। বেশ কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানায়, যেকোনো মূল্যে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন নামের সোনার হরিণটি হাত করা যায় তাহলে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসাটা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। যে কারণে এ দলের মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত বলে জানান। বেশ কয়েকদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন স্থানে বৈঠক ও তৃণমূলের মতামত নেয়া শুরু করেছেন। এ উপজেলার ৬ ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যানদের চেয়ে নতুন প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। কাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে কি লাভ এবং কি ক্ষতি হতে পারে এ নিয়েও উপজেলার হাইকমান্ড কাজ করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক প্রতি ইউনিয়নে একজন করে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত করার লক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছেন বলে দফতর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির জানিয়েছেন।এস এম এরশাদ/এএম/জেআইএম