দেশজুড়ে

কাপ্তাইয়ে পানি না কমায় বিপাকে চাষিরা

সঠিক সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি না কমায় রাঙামাটি জেলায় জলেভাসা জমিতে চলতি বোরোচাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এতে ধানসহ রবিশস্য আবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরও বিষয়টি স্বীকার করেছে।

১৯৬০ সালে সৃষ্ট দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি কাপ্তাই হ্রদ ঘিরে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে ভেসে ওঠে চাষযোগ্য জমি। এতে আবাদ হয় বোরো ফসল। কিন্তু এ মৌসুমে সঠিক সময়ে হ্রদের পানি না কমায় ব্যাহত হতে চলেছে চাষাবাদ। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রমণী কান্তি চাকমা বলেন, এ মৌসুমে জেলার মোট ১০ উপজেলার ৭ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জলেভাসা জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু সঠিক সময়ে হ্রদের পানি না কমায় এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে।

জেলায় কাপ্তাই হ্রদে জলেভাসা জমির পরিমাণ ১৬ হাজার ৮০ হেক্টর। এতে বোরোচাষের উপর নির্ভরশীল প্রায় ১৯ হাজার চাষি। সাধারণত বোরোচাষ নির্ভর করে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমার ওপর। হ্রদে ভেসে ওঠা জমিতে ধানসহ রবিশস্য রোপন করা হয়ে থাকে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে। ফসল তোলা হয় জুন-জুলাইয়ের মধ্যে। সেই সময়ের মধ্যে ফসল তুলতে না পারলে বর্ষায় তলিয়ে যায় ফসল।

জেলার লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্যা এলাকায় জলেভাসা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন আলীম উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতি বছর দেরিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি ছাড়া হয়। এ বছরও দেরিতে হ্রদের পানি কমায় জলেভাসা জমিতে বোরো আবাদ ব্যাহত হয়েছে। এতে চাষাবাদ নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি।

এফএ/এমএস