দেশজুড়ে

পঞ্চগড়ে বারুণী স্নান উৎসবে লাখো মানুষের ঢল

পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বারুণী মহাস্নান উৎসব। রোববার সূর্যোদয়ের সঙ্গে জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের বোয়ালমারী এলাকার করতোয়া নদীর পাড়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের এ মহাস্নান শুরু হয়।

দিনের আলো ফুটতে না ফুটতেই পুণ্যার্থী ও সাধু-সন্ন্যাসীরা এসে জড়ো হয় করতোয়া নদীর তীরে। দল বেঁধে তারা করতোয়ার উত্তরমুখী স্রোতে রাতে স্নান শুরু করেন।

সনাতন ধর্মালম্বী পূজারীরা জানায়, চৈত্রের মধুকৃষ্ণ ত্রিদশী তিথির তিন দিনে নদীর উত্তরমুখী স্রোতে স্নান করলে পাপমোচন হয়। দেহ-মনকে পরিশুদ্ধ করতে অনেকে মাথার চুল বিসর্জন দেয়। পূজা অর্চনা করে। স্নানমন্ত্র পাঠ করে হাতে বেল পাতা, ফুল, ধান, দুর্বাঘাস, হরিতকি, কাঁচা আম, ডাব, কলা ইত্যাদি অর্পণের মাধ্যমে স্নান সম্পন্ন করে।

স্নান উৎসবে আসা সনাতন ধর্মাবল্বীরা মনে করেন, মাতৃহত্যার মতো জঘন্য পাপও মোচন হয় এই পুণ্যস্নানে। এ জন্য জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ সনাতন ধর্মালম্বী অংশ নেয় এই মহাস্নান উৎসবে।

কোলের শিশুসহ বিভিন্ন বয়সীরা এই স্নান উৎসবে অংশ নেয়। পর্দানশীল নারীদের জন্য নদীর এক মাথায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। মঙ্গলবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলবে এ পুণ্যস্নান উৎসব।

এদিকে, প্রতি বছরের মতো এবারও বারুণী স্নান উৎসব উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। করতোয়ার দুই পাড়ে যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করে মন্দির কমিটি।

স্নান উৎসব তিনদিন হলেও জমজমাট এই মেলা সপ্তাহব্যাপী চলবে বলে জানা গেছে। মেলায় খাবার হোটেল, ছোটদের খেলনাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের শতাধিক স্টল রয়েছে।

দেবীড়ঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি থেকে নরসুন্দর রবিন্দ্র চন্দ্র বলেন, প্রতি বছর এখানে আসি। চুল দাড়ি কাটার উপকরণ নিয়ে এবারও আমার মতো অনেকে এখানে এসেছেন।

নীলফামারী জেলা থেকে আসা শ্রী মনোজ কমার রায় বলেন, আমি এবার প্রথম স্নান উৎসবে এসেছি। কয়েক দিন হলো বাবা মারা গেছেন। তার সর্গবাসের আশায় স্নানসহ মাথার চুল বিসর্জন দিয়েছি।

সনাতন ধর্মালম্বী পূজারী প্রভূ শ্রী মন্টু দাস বলেন, নিজেদের আত্মশুদ্ধি এবং পিতা-মাতার স্বর্গবাসের আশায় ভক্তরা নদীর উত্তরমুখী স্রোতে পূণ্যস্নান করেন। এখানে স্নান করলে মাতৃহত্যার মতো পাপও মোচন হয়।

সফিকুল আলম/এএম/জেআইএম