দেশজুড়ে

নারায়ণগঞ্জে ট্রলারডুবি : আরও এক শিশুর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনায় ট্রলারডুবির ঘটনায় আরো এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় মোট ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তাকে উদ্ধার করলেও হাসপাতালে নেয়ার পরে সে মারা যায়। তবে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় এখনো আরো ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে স্বজনরা জানান। তবে অন্ধকার হওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ স্থগিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। সকাল থেকে উদ্ধার কাজ আবার শুরু করবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

এরআগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুরের বেলতলির লেংটার মেলায় যাওয়ার পথে সোনারগাঁওয়ের চরকিশোরগঞ্জ এলাকাস্থ মেঘনা নদীতে ট্রলারটি ডুবে দুই নারীসহ তিনজন মারা যায়। তারা ঢাকার রায়পুরাসহ বিভিন্ন এলাকার বসিন্দা। আর রাজধানীর রামপুরা থেকে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে চাঁদপুরের বেলতলিতে সোলেমান শাহ ওরফে লেংটার মেলায় যাচ্ছিল। সন্ধ্যায় সোনারগাঁয়ে চর কিশোরগঞ্জ এলাকাতে মেঘনায় অতিরিক্ত ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে লেংটার মেলায় যাওয়া ও ফেরার পথে নদীতে ট্রলার দুর্ঘটনার মত ঘটনা ঘটছে। প্রতিবছর কোনো না কোনো ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং লোকও মারা যাচ্ছে। এতে ট্রলার চালকের অদক্ষতাকে দায়ী করছেন অনেকে।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার জানান, লেংটার মেলাতে প্রতিবছর যেসকল ট্রলার চলাচল করে সেগুলোর বেশীরভাগেরই চালক থাকে অদক্ষ। সেকারণে ওই সকল চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

সোনারগা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক এসআই মাকসুদ জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির একটি টিম সন্ধ্যার পর থেকে উদ্ধার কাজ করে আসছিল। রাতে এক অজ্ঞাত শিশুকে উদ্ধার করতে পারলেও তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়। এরআগে আরো তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ট্রলারে থাকা লোকজনের তথ্যমতে আরো ১৫ জন লোক নিখোঁজ রয়েছে।

শাহাদাত হোসেন/এফএ/এমএস