দেশজুড়ে

জাল দলিলে সমাজসেবার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুর সদর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বালুচড়া এলাকায় জাল দলিল করে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের শহর সমাজসেবা আওতাধীন দক্ষিণ বালুচড়া সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের সরকারি সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী শরীয়তপুর সদর পৌরসভা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হাতেম ঢালী সরকারি সম্পত্তি দখল করেছেন বলে জানা গেছে। সরকারি সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে জবরদখলের কারণে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই জমিতে একটি জরাজীর্ণ গণমিলনায়তন কেন্দ্র রয়েছে। তার পূর্বপাশে রয়েছে সূর্যমূখী ক্লাব নামে টিনসেডের একটি ঘর। তাছাড়া ওই জমি দখল করে হাতিম ঢালী তার বাড়িতে প্রবেশের জন্য পশ্চিম পাশে একটি কাঁচা সড়ক করেছেন।

জেলা সমাজসেবা অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ৫৭ নং দক্ষিণ বালুচড়া মৌজাস্থ এসএ ৩৬, ২১৩, ২০৮ ও ২০৩ নং খতিয়ানের ৩৫৮ দাগের ৫১ শতাংশ জমির মধ্যে ৩২ শতাংশ জমি মৃত ধুরেন্দ্র নাথ পালের ছেলে যোগেশ চন্ত্র পাল ও শ্রী কালিপদ পাল জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতাধীন দক্ষিণ বালুচড়া সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের নামে দলিলমূলে দিয়ে যান।

কিন্তু মৃত আব্দুল করিম ঢালীর ছেলে হাতেম ঢালী সরকারি ওই ৩২ শংতাশ জমির থেকে জাল দলিলের মাধ্যমে ২৪ শতাংশ জমি জবর দখল করে ভোগ করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিও জানান তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাতেম ঢালী বলেন, জাল দলিল করে সরকারি সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগটি সঠিক নয়। আমি যোগেশ চন্ত্র পাল ও শ্রী কালিপদ পালের থেকে জমি কিনে নিয়েছি। প্রয়োজনে কাগজপত্র যাচাই করুন।

এদিকে স্থানীয় সাদিক আলী বেপারী (৬০), রাজ্জাক বেপারী (৩০), আব্দুল বারেক মৃধা (৩৫) ও তোতা মহলদার বলেন,  আমরা জন্মের পর থেকে দেখে আসছি এটা সমাজ সেবার জমি। এখানে ছেলে-মেয়েরা লেখা-পড়া করতো। এলাকার তরুণরা খেলাদুলা করতো। এই সমাজ সেবায় জমিতে রয়েছে সমাজ কল্যাণ, সূর্যমূখী ক্লাব ও পল্লী উন্নয়ন সমিতি। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে শুনছি এই জমি নাকি হাতেম ঢালীর। তিনি নাকি তার নামে একটি জাল দলিল করেছেন।

শরীয়তপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউনসিলর মো. আবুল কাশেম মোল্লা বলেন, জমি সমাজ সেবার কিন্তু হাতেম ঢালী জাল দলিল করে জমির মালিক হতে চাচ্ছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি টাকার গরম দেখিয়ে সব নিজের মনে করেন।

শরীয়তপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড সাবেক কাউনসিলর আব্দুস সামাদ বেপারী বলেন, স্থানীয় যোগেশ চন্ত্র পাল ও শ্রী কালিপদ পাল জেলা সমাজ সেবাকে ৩২ শতাংশ জমি দলিলমূলে দিয়ে যান। কিন্তু পরে এই সম্পত্তির ২ শতাংশ সূর্যমূখী ক্লাব ও ৭ শতাংশ পল্লী উন্নয়ন সমিতির নামে রেকর্ডভূক্ত হয়। জেলা সমাজ সেবার নামে দিয়ে যাওয়ার পর এই সম্পত্তি সমাজ কল্যাণ, সূর্যমূখী ক্লাব ও পল্লী উন্নয়ন সমিতি নামে রয়েছে। কিন্তু হাতেম ঢালী দলিলমূলে যদি জমির মালিক মনে করেন তাহলে তিনি জাল দলিল করেছেন। 

জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক মো. কামাল হোসেন বলেন, আমারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। জমির বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জানিয়েছি। ওই জমির আরএস, এসএ ও বিআরএস কাগজপত্র উঠালে বিস্তারিত বলতে পারবো।

সদর উপজেলার দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শহীদুল আরেফিন বলেন, বিআরএস পর্চা দেখে বলা যাবে জমির কী অবস্থা। যদি ভুলে ওই ব্যক্তির নামে সম্পত্তি বিআরএস রেকর্ড হয় তাহলে রেকর্ড সংশোধনী মামলা করতে হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। জেলা সমাজ সেবা  বিষয়টি আমাকে যদি জানান তাহলে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। যদি সরকারি সম্পত্তি হয় তাহলে দ্রুত তা দখলমুক্ত করা হবে।

ছগির হোসেন/এফএ/এমএস