দেশজুড়ে

ঝালকাঠির সিনেমা হল এখন আ.লীগের কার্যালয়

ঐতিহ্যবাহী ঝালকাঠির ‘মিতু’, ‘পলাশ’ ও ‘রূপালী’ সিনেমা হলের পর্দা উঠছে না দীর্ঘদিন ধরে। এর ফলে জেলার বিনোদন প্রিয়রা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে ভিড় করছেন পৌর মিনি পার্কে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের লঞ্চঘাট এলাকার ‘রূপালী’ সিনেমা হলটি প্রায় ২০ বছর আগে, পালবাড়ি খেয়াঘাট এলাকার ‘পলাশ’ সিনেমা হলটি ১৭ বছর আগে এবং জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘মিতু’ সিনেমা হলটি ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনের সময় বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ঝালকাঠি জেলায় কোনো সিনেমা হল নেই।

মূলত সিনেমা হলের প্রতি মানুষ বিমুখ থাকার কারণে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা মিতু সিনেমা হলটির মালিক সৈয়দ আবু জাহিদ জিয়াউল হক ২০১১ সালে পৌর নির্বাচনের সময় বিক্রি করে দেন। পরে ক্রেতা ওই ভবনটিকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং অন্য ব্যবসার কাজে ব্যবহার করছেন।

জেলা শহরের লঞ্চঘাট এলাকার রূপালী সিনেমা হলটি বাণিজ্যিক ছিল না। কর্তৃপক্ষ প্রোজেক্টরের মাধ্যমে বাংলা সিনেমা প্রদর্শন করত। কিন্তু দর্শক প্রিয়তা হারালে সেটিও মালিক পক্ষ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এছাড়া পলাশ সিনেমা হলের অবস্থাও একই। অপসংস্কৃতির কারণেই এ সিনেমাহলগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি দূর থেকে আসা এক পথচারী পথনির্দেশনার জন্য মিতু সিনেমা হলের সামনে এসে জনৈক এক ব্যক্তির কাছে জানতে চায় “ভাই ঝালকাঠির মিতু সিনেমা হল কোনটি?” উত্তরে ওই ব্যক্তি ভবনটিকে দেখিয়ে বলেন “এটাই মিতু সিনেমা হল।” তখন ভবনে সাঁটানো একটি আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ফেস্টুন দেখিয়ে পথচারী পুনরায় জানতে চান “এখন এই সিনেমাটি চলছে?”

মিতু সিনেমা হলের সামনের মোবাইল ব্যবসায়ী রিপন জানান, সিনেমা হলটি চালু থাকলে এখানে লোকজন ভরপুর থাকত। হলটি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই সেই মুখরিত পরিবেশ আর নেই। তাই আমাদের ব্যবসাতেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে পলাশ সিনেমা হলের মালিক মো. আউয়াল হোসেন জানান, ১৯৮৩ সালে বড় বাজেট নিয়ে হলটির কার্যক্রম শুরু করি। শুরু থেকেই সামাজিক ছবি প্রদর্শন করতাম। শহরের কিছু লোকজন এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এরশাদ সরকারের আমলে টাকার সমস্যা দেখা দিলে ঋণের জন্য ব্যাংকে আবেদন করি। সেই টাকা না পাওয়ায় অনেকটা পিছনে পড়ে গিয়ে হলটি বন্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।

মো. আউয়াল হোসেন জানান, সরকার সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে এবং সিডি পাইরেসি ও অপসংস্কৃতি বন্ধ করলে আবারও ঝালকাঠির হলগুলো চালু করা সম্ভব।

এফএ/জেআইএম