দেশজুড়ে

মৃত নারীকে বাঁচাতে ওঁঝার ২৪ ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক!

পঞ্চগড়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুর পর অন্ধ বিশ্বাসে এক গৃহবধূকে বাঁচাতে ২৪ ঘণ্টা ধরে সনাতনী কায়দায় ঝাড়-ফুঁকের পর অবশেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার দুপুরে ওই গৃহবধূকে সাপে কাটে। বিভিন্ন এলাকার ডজনখানেক ওঁঝা ও কবিরাজের কেরামতি শেষে শুক্রবার বিকেলে মরদেহ দাফন করা হয়। চিকিৎসক মৃত ঘোষণার পরও তাকে জীবিত করার কারিগরদের নানান কসরত আর কারসাজি দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে মৃতের বাড়িতে। উৎসুক মানুষের ভির সামাল দেয় একদল পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারের সদস্যরা জানায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের লাঙ্গলগাঁও গ্রামের রিকসাচালক সাকিমুল ইসলামের স্ত্রী আরজিনা বেগম (৩২) বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদাম ক্ষেতের বেড়া ঠিক করছিলেন। এসময় তার বাম পায়ে সাপ কামড় দেয়। তিনি চিৎকার করলে প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে কবিরাজের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে ঝাড়ফুঁক শেষে পায়ে রশি বেঁধে তাকে নেয়া হয় পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালে।

অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সন্ধ্যার আগেই তাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আবারও শুরু হয় ওঁঝার সনাতনী চিকিৎসা। এক পর্যায়ে শুক্রবার সকালে মৃত ভেবে মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মরদেহ শেষ গোসলের ধৌতকারির একজন বলে উঠেন গৃহবধূ নরাচরা করছে। এসময় জীবিত ভেবে আবারও মাটিতে শুইয়ে শুরু হয় ওঁঝা ও কবিরাজের ঝাড়ফুঁক।

দূর-দুরান্ত থেকে ওঁঝা ও কবিরাজ আনা হয় মৃতকে বাঁচানোর জন্য। দিনভর চলতে থাকে ওঁঝা আর কবিরাজের হরেক রকম কারসাজি। ওঁঝার ঝাড়ফুঁকে সাপে কাটা গৃহবধূ জীবিত হচ্ছেন এমন খবর ছড়িয়ে পরে চারদিকে। ছুটে আসেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। এক পর্যায়ে সদর থানা পুলিশের একটি দল উৎসুক মানুষের ভির সামলাতে চেষ্টা করেন। অবশেষে ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার সন্ধ্যার আগে স্থানীয় কবরস্থানে নামাজে জানাযা শেষে গৃহবধূর মরদেহ দাফন করা হয়।

মৃত গৃহবধূর স্বামী সাকিমুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আমার স্ত্রীর কোনো চিকিৎসা হয়নি। নানান জনের নানা কথায় কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। নিরুপায় হয়ে ওঁঝা ও কবিরাজের আশ্রয় নেই। সাপে কাটা রোগী হিসেবে যথাযথ চিকিৎসা পেলে হয়তো আমার স্ত্রীকে বাঁচানো যেতো।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. সিরাজ উদদৌলা পলিন বলেন, আমাদের হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর কোনো চিকিৎসা নেই। এমন রোগী হাসপাতালে ভর্তিরও সুযোগ নেই। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কোথায় কীভাবে কি করেছেন, তা আমাদের জানা নেই।

সফিকুল আলম/এমএএস/এমএস