দেশজুড়ে

ঝালকাঠির পিপি হত্যায় মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের দাবি

ঝালকাঠির পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন হত্যাকাণ্ডের ৯ম বার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল তাকে গুলি করে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা।

এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হালিম। রায় ঘোষণার দুই বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। হত্যার ঘটনায় রায়ের দিন আদালতে আসামি তানভীর, মুরাদ, আমীর উপস্থিত ছিলেন এবং বেল্লাল ও সগির পলাতক রয়েছে।

২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর  জেএমবির বোমায় ঝালকাঠির দুই বিচারক সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাড়ে নিহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী পিপি হায়দার হোসাইনকে ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল গুলি করে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। দীর্ঘ সূত্রিতা এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি উল্লেখিত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এ রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহত পিপি হায়দার হোসাইনের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত পিপির ছেলে ও মামলার বাদী তারিখ বিন হায়দার বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। ন্যায় বিচারের জন্য সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির পাঁচ সদস্যের রায় এখনো কার্যকর করা হচ্ছে না। তারপরে হত্যাকারীদের মধ্যে দুইজন এখনো পলাতক। তারা পুনরায় আরও কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও আমরা আতঙ্কে আছি।

নিহত পিপির স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর করা না হলে উচ্চ আদালত থেকে আসামিরা ছাড়া পেতে পারে। অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইনের নামে স্মৃতি ফলক নির্মাণের দাবিও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পিপি এম আলম খান কামাল বলেন, পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মধ্য দিয়ে জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আসামিদের নথিপত্র উচ্চ আদালতে গেলেও এর পরে কি হয়েছে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে উচ্চ আদালতের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করতে সময় লাগে।

অপরদিকে, অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে  মঙ্গলবার পারিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

আতিকুর রহমান/আরআইপি