নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক শিল্পপতিকে নারী দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টাকালে দুই এসআইকে গণধোলাই দিয়ে আটক করার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
এবার এক মাদক ব্যবসায়ীর মাকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশের এসআই ও এএসআই-এর বিরুদ্ধে।
মাদক ব্যবসায়ী রুবেলকে গ্রেফতারের পর তার মা রুনা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে রুনা বেগম অভিযোগ করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলা জামপুর ইউনিয়নের কলতাপাড়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী রুবেলকে ৭০ পিস ইয়াবা ও ১০ ক্যান বিয়ারসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ সময় পুলিশের দুই কর্মকর্তা তার মা রুনা বেগমের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আলমারি থেকে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। মঙ্গলবার রুবেলকে মাদক আইনে আদালতে প্রেরণ করে। গ্রেফতার রুবেল উপজেলার কলতাপাড়া গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে।
এদিকে, মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় সোনারগাঁ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মারুফুর রহমান ও এএসআই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানা পুলিশের ওসির বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মাদক ব্যবসায়ী রুবেলের মা রুনা বেগম।
মাদক ব্যবসায়ী রুবেলের মা রুনা বেগম বলেন, সোনারগাঁ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মারুফুর রহমান ও এএসআই শফিকুল ইসলাম আরও একজন কনস্টেবল নিয়ে সোমবার বিকেলে কলতাপাড়া গ্রামে তার ছেলে রুবেলকে গ্রেফতার করে।
এ সময় রুবেলের কাছ থেকে ১০ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করে পুলিশ। রুনাকে অফিসাররা টাকা দেয়ার জন্য অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে এসআই মারুফুর রহমান আলমারির চাবি নিয়ে খুলে নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে যান।
এ সময় তিনি টাকার বিনিময়ে তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার কথা বললে রাস্তায় নয়াপুর এলাকায় ছেড়ে দেবে বলে জানান এসঅাই। পরে জানতে পারে তার ছেলেকে থানায় নিয়ে ৭০ পিস ইয়াবা ও ১০ ক্যান বিয়ারসহ গ্রেফতার দেখিয়ে মামলা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার তার ছেলেকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানা পুলিশের ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদেরের কাছে রুবেলের মা রুনা বেগম এ দুই অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
সম্প্রতি এসআই মারুফুর রহমান সোনারগাঁ থানায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের আটক করে অর্থ আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৪ মার্চ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও এলাকার মায়ের দোয়া নামের এক বেকারি মালিক তৌহিদকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে সোনারগাঁ থানা পুলিশের ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদেরের হস্তক্ষেপে টাকা ফেরত দেন।
এছাড়া গত রোববার রাতে জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের আমিনুল ইসলাম নামের এক কাপড় ব্যবসায়ীকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে আসেন।
পরদিন সকালে ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামকে ছেড়ে দেয়ার শর্তে এক লাখ টাকা দাবি করেন এসআই মারুফ। পরবর্তীতে তার বড় ভাই ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলামের সঙ্গে ৩০ হাজার টাকা রফাদফায় ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়া হয়।
গত ৩ এপ্রিল জামপুর ইউনিয়নের কলতাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা শাহ পরানকে গ্রেফতারের পর দুই লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয় এসআই মারুফুর রহমান।
জামপুর ইউনিয়নের কলতাপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী সুফিয়ান, মনিরুল ইসলাম বলেন, কলতাপাড়া গ্রামে দিনের কোনো না কোনো সময় এসআই মারুফুর রহমান এসে ঘুরাফেরা করেন।
মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় এসে তিনি অভিযান চালান। এ গ্রামে এসে তিনি গ্রেফতার বাণিজ্য করেন। এ ঘটনায় এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সোনারগাঁ থানা পুলিশের এসআই মারুফুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
সোনারগাঁ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. মঞ্জুর কাদের বলেন, রুবেলকে গ্রেফতারের সময় এসআই মারুফুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনায় রুবেলের মা আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন অফিসারের কাছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/আরআইপি