লক্ষ্মীপুরে গত চার দিনের বৃষ্টিতে সয়াবিন, তরমুজ, মরিচ ও বাদামসহ বিভিন্ন রবি ফসলের মাঠ পানির নিচে ডুবে গেছে। অতিরিক্ত পানি খেতে জমে থাকায় ফসলের গাছ মরে যাওয়া ও ফলন পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে খেত জমে থাকা পানি দ্রুত না নামলে কৃষকদের সর্বনাশের আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৯২ হাজার ৩৩৬ হেক্টর জমিতে রবি ফসলের আবাদ হয়। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সয়াবিনের। পাঁচ উপজেলায় মোট ৫০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়। আবাদকৃত সয়াবিন পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে কৃষকরা বৃষ্টির মুখে পড়ে। অসময়ে ভারি বর্ষণে কৃষকরা এখন হতাশ। তাদের পড়তে হচ্ছে ক্ষতির মুখে।
বুধবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে ভারি বর্ষণ হয়েছে। এতে রামগতি উপজেলার চর সীতা, চর বাদাম, আলেকজান্ডার, বড়খেরী, চর আবদুল্লাহ, কমলনগর উপজেলার চর ফলকন, চর জাঙ্গালিয়া, চর কালকিনি, চরমার্টিন, চর লরেন্স, চর কাদিরা, চরবসু, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবনীগঞ্জ, চর উভুতি, আবিরনগর, লাহারকান্দি চর রমনিমোহন এছাড়া জেলার রায়পুর ও রামগঞ্জের বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চল এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে।
পানির নিচে ফসলের মাঠ ডুবে থাকায় আধা পাকা সয়াবিনের চড়া পঁচন লেগেছে। বাদাম, মরচি ও তরজুম গাছ মরতে শুরু করেছে। কৃষকরা ফসল রক্ষায় সেচ দিয়েও পানি সরাতে পারছেন না।
রামগতির চরসীতা গ্রামের কৃষকরা জানান, সয়াবিন পাকতে শুরু করেছে। তবে এখনও গাছে ৭৫ ভাগ কাঁচা। অসময়ে বৃষ্টির কারণে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে না, গাছে মরে যাবে। এতে আমাদের সর্বনাশ হবে।
চর মার্টিন গ্রামের কৃষক আলী হোসেন জানান, নিজের ২৫ একর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিতে ফসলের খেত ডুবে গেছে। ফসল ঘরে না গেলে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হবে।
রামগতির কৃষক আনোয়ার উল্যাহ বলেন, অন্যের জমিতে ধার দেনা করে সয়াবিনের আবাদ করেছি। গত তিনদিনে বৃষ্টিতে সয়াবিন গাছ ডুবে আছে। কিছু পানি অন্যত্র সরালেও ফের বৃষ্টিতে খেত ডুবে গেছে।
চরবসু গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়েদল হক বলেন, তুমুল বৃষ্টির কারণে চরসবুসহ আশেপাশের চরাঞ্চলের কৃষকদের আবাদকৃত জমির সয়াবিন খেত এখন পানিতে ডুবে আছে। ওই সব খেতের সয়াবিন ঘরে তোলা সম্ভব হবে না।
চর কাদিরার কৃষক রুহুল আমিন ও আবুল খায়ের বলেন বলেন, প্রচুর বৃষ্টির কারণে তরমুজ খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গাছের ফুল ঝরে গেছে, ছোট-ছোট তরমুজে পচন লেগেছে। গাছের পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে এবং গাছ মরে যাচ্ছে।
কমলনগর উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিন পলাশ বলেন, পানির নিচে ডুবে থাকা সয়াবিন ও তরমুজের গাছ মরে যাবে। যতটুকু সম্ভব কৃষকদের পানি সরাতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে মোট ৫০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রামগতিতে ১৮ হাজার ২০০ হেক্টর, কমলনগরে ১৬ হাজার ৩১০, রায়পুরে ৭ হাজার ৯৬০, সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৯৫০ ও রামগঞ্জে ৮৫ হেক্টও জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়।
কাজল কায়েস/এআরএ/আরআইপি