ক্যাম্পাস

জবির আবাসন সংকট সমাধানকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি

কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের পর প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন। এ নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে শীর্ষ তিনটি পদসহ মোট ১৬টিতে জয়ী হয়েছে শাখা ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। এতে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল আলিম আরিফ।

নির্বাচিত হওয়ার পরে জকসু নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জাগো নিউজকে জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাগো নিউজের জবি প্রতিনিধি তৌফিক হোসেন।

জাগো নিউজ: জিএস হিসেবে আপনার দায়িত্বকে কীভাবে দেখছেন?

আব্দুল আলিম আরিফ: দায়িত্ব আমাদের কাছে একটি আমানত। এ আমানত রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য। আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর যে আস্থা দেখিয়েছে, এটার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা শিক্ষার্থীদের আশা পূরণ করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

আরও পড়ুনজবি শিবিরের নেতৃত্বে জকসুর নতুন ভিপি রিয়াজ, জিএস আরিফজকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিতদের নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারিজকসুর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

জাগো নিউজ: দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনারা কোন কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবেন?

আব্দুল আলিম আরিফ: আমাদের অনেক বিষয় আছে যেগুলো এক বছরে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে এগুলো শুরু করা যেতে পারে। আমরা সেটা করতে চাই। এছাড়া কিছু সমস্যার সমাধান সম্ভব। যেমন— আমরা বাস ট্র্যাকিং অ্যাপ লঞ্চ করতে পারবো, ইন্টারনেট সমস্যার সমাধানে কাজ করবো, ক্যান্টিনের খাবারের মানোন্নয়ন— এগুলো সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবো। একটা কাজ করবো বলে আরেকটা করবো না, এমন যেন না হয়। আমরা ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

জাগো নিউজ: শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধানে আপনাদের ভাবনা কী?

আব্দুল আলিম আরিফ: এটা কেবল সংকট নয়, এটা একটি কাঠামোগত ব্যর্থতা। দীর্ঘদিন পরিকল্পনার অভাবে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। আমরা এটাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেখছি। কেরানীগঞ্জে সাত একরে যেন দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করা হয়, যে দুটি হলের কাজ শুরু হয়েছে তা যেন দ্রুত শেষ হয়— এগুলোর জন্য আমরা কাজ করবো।

আরও পড়ুন জকসুতেও ছাত্রদলের ভরাডুবির কারণ কী?বসার জায়গা নেই জকসু নেতাদেরজকসুতে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের নির্বাচিতদের খালেদার কবর জিয়ারত

জাগো নিউজ: দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে জকসুর ভূমিকা কী হতে পারে?

আব্দুল আলিম আরিফ: জকসু প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের যে দাবি ছিল— দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে কাজ যেন সেনাবাহিনীর হাতে যায় তা নিশ্চিত করা— আমরা এটা নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের প্রধান লক্ষ্য কাজ যেন কোনোভাবেই থমকে না থাকে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাস আমাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাস। এটা যে কোনো মূল্যে হতেই হবে, নির্ধারিত সময়ের ভেতরে হতে হবে।

জাগো নিউজ: ছাত্রশিবিরকে আমরা দেখেছি বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ করতে। এখন তো আপনারা সব শিক্ষার্থীর নেতা। এখন কল্যাণমূলক কাজগুলো কি জকসুর ব্যানারেই করবেন নাকি ছাত্রশিবিরের?

আব্দুল আলিম আরিফ: আমাদের কিছু কাজ রয়েছে যেটা সাংগঠনিক। সেটা তো অবশ্যই ছাত্রশিবিরের ব্যানারে হবে। কিন্তু এর বাইরে সব শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যে আমরা আগেও কাজ করেছি, জকসুর পরেও করবো। জকসুর কাজ কী কী তা গঠনতন্ত্রে আছে, ছাত্রশিবিরের কাজ কী তা আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে। জকসুতে আমরা সব শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। জকসুর কাজ জকসু করবে, ছাত্রশিবিরের কাজ ছাত্রশিবির। মূলত জকসুর পর আমাদের দায়িত্বের পরিধি বেড়েছে, জবাবদিহিতা বেড়েছে। আমাদের কাজ এখন দ্বিগুণ।

আরও পড়ুনজকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে: ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থীজকসু নির্বাচনে বিজয়ীরা কে কত ভোট পেলেনজকসু সম্পন্ন হচ্ছে এটাই বড়প্রাপ্তি: রাকিব

জাগো নিউজ: অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জকসু ভবন নেই। বাজেটের বিষয়ে এখনো পরিষ্কার নই। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

আব্দুল আলিম আরিফ: দেখুন, একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের চাহিদা অনেক। সেই তুলনায় রিসোর্স অত্যন্ত কম। আমাদের ক্লাসরুমের সংকট, অনেক শিক্ষক বসারও জায়গা পান না। আমরা এত কিছুর মধ্যেও তো চলছি। আমরা তো শিক্ষার্থীদের বাইরের কেউ নই। এগুলো আমরা অ্যাডজাস্ট করে নিতে পারবো। তবে এটা অবশ্যই সত্য— আলাদা একটা ভবন থাকলে, আলাদা আলাদা সবার রুম থাকলে, পর্যাপ্ত রিসোর্স থাকলে কাজ করতে তো সুবিধাই হবে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটা দেখবে।

আর বাজেটের বিষয়ে বলতে গেলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটও তুলনামূলক অপ্রতুল। এখন আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র যারা ভালো ভালো জায়গায় আছেন, তাদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো। তাদের এনগেজ করে কাজ করলে আমাদের সুবিধা হবে, বিশ্ববিদ্যালয়েরও উন্নয়ন হবে।

জাগো নিউজ: এক বছর পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান?

আব্দুল আলিম আরিফ: শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর যে বিশ্বাস রেখে দায়িত্বে বসিয়েছে, তারা যেন এক বছর পর তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা পান— সেটা নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের সংকট অনেক বেশি হওয়ায় কাজ করার সুযোগও অনেক বেশি। আমরা চাই এসব সংকটের সমাধান করতে। যেগুলো এই সময়ে সম্ভব নয়, অন্ততপক্ষে সেগুলো সমাধানে কাজ শুরু করে দিয়ে যেতে চাই। সব শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ।

টিএইচকিউ/এমএমএআর/এমএফএ/এমএস