দেশজুড়ে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছায়েদুলের আগমন ঠেকাতে একাট্টা ছাত্রলীগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশ উপলক্ষে রোববার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের আগমন ঠেকাতে একাট্টা হয়েছে জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে সঙ্গে না নিলে যেকোনো মূল্যে মন্ত্রী ছায়েদুলকে বিজয়নগরে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগ।

ছায়েদুল হককে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লাশের ওপর দিয়ে যেতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ।

এদিকে, মন্ত্রী ছায়েদুল হকের আগমন ঠেকাতে রোববার সকাল থেকে বিজয়নগর উপজেলায় প্রবেশ পয়েন্টগুলোতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেবে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হোসেন রুবেল জাগো নিউজকে বলেন,আমরা যেকোনোভাবে হোক মন্ত্রী ছায়েদুল হককে প্রতিহত করবো। সকাল ৭টা থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেবে। প্রয়োজনে মন্ত্রীর গাড়ির নিচে শুয়ে পড়বো আমরা। মন্ত্রীকে বিজয়নগরে ঢুকতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে যেতে হবে।

অন্যদিকে, মন্ত্রী ছায়েদুল হক যদি বিজয়নগরে প্রবেশ করেন তবে তাকে প্রতিহত করতে অ্যাকশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শোভন।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা মোকতাদির চৌধুরীকে নিয়ে যদি মন্ত্রী ছায়েদুল হক বিজয়নগরে যান, তাহলে আমরা তাকে স্বাগত জানাবো। যদি মোকতাদির চৌধুরীকে না নিয়ে মন্ত্রী বিজয়নগরে ঢুকতে চান, তাহলে আমরা তাকে প্রতিহত করার জন্য অ্যাকশনে যাব।

গত কয়েকদিন ধরেই বিজয়নগরে মন্ত্রী ছায়েদুল হকের কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে। জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী কয়েকদিন ধরে মন্ত্রী ছায়েদুল হককে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তাদের ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

রোববার বিজয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের। কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ফলে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তানভীর ভূঁইয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মন্ত্রী ছায়েদুল হকের অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন।

পরে ওইদিন বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন রোববার বিজয়নগরে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেয়।

এরপর শুক্রবার দুপুরে বিজয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে মারধর ও তার কার্যালয় ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর নামফলকও ভেঙে দেয়া হয়।আজিজুল সঞ্চয়/এসআর