দেশজুড়ে

সোনারগাঁয়ে ইজিবাইকচালক হত্যা, একজনের স্বীকারোক্তি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চালককে গলা কেটে হত্যা করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার মেহেদী হাসান আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান ১৬৪ ধারায় মেহেদী হাসানের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সোহেল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মেহেদী বন্দর উপজেলার একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। তার সহপাঠী একই ক্লাসের ছাত্র অনিক, রিয়াজ, পারভেজ ও রিংকু। রিয়াজের বন্ধু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক নিহত সোহন।

পারভেজ ও রিংকুর প্রস্তাবে মেহেদী অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। এরপর পরিচিত সোহানের অটোরিকশায় বন্দর থেকে ৫ জন উঠে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ায়।

এর মধ্যে ছিনতাইয়ের পর অটোরিকশা বিক্রির জন্য শাহীনকে প্রস্তুত থাকার কথা বলে ৩টি ছুরি সংগ্রহ করে তারা। রাত সাড়ে ১০টায় সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন ব্রিজের সামনে এসে অটোরিকশাচালক সোহানের ওপর হামলা চালায়।

প্রথমে সোহানের গলায় মেহেদী ছুরিকাঘাত করে। পরে সোহানের পেটে রিংকু ছুরিকাঘাত করে হত্যা শেষে সড়কের ঢালে মরদেহ ফেলে দেয়।

এরপর পারভেজ অটোরিকশা চালিয়ে নিয়ে তাদের এক ইয়াবা সেবনকারী বন্ধুর বাসায় রাখে। সেখান থেকে ট্রাকে উঠিয়ে অটোরিকশাটি নারায়ণগঞ্জে এনে নিয়ে আসার সময় এলাকাবাসীর হাতে আটক হয় তিনজন। এরপর পুলিশ আরও একজনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় মোট চারজন গ্রেফতার হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনারগাঁ থানা পুলিশের এসআই সাধন চন্দ্র বসক বিষয়টি নিশ্চিত করলেও জবানবন্দি দেয়া মেহেদী কোন স্কুলের ছাত্র তা বলতে পারেননি। তবে গ্রেফতার চারজনের নাম-পরিচয়সহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নিহত ইজিবাইকচালক সোহান বন্দর শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ি কলোনি এলাকার আবদুর রশিদ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া আলী আহাম্মদের ছেলে। গত সোমবার রাতে সোনারগাঁও উপজেলার সোরারগাঁও ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন ব্রিজের সামনে থেকে সোহানের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শাহাদাত হোসেন/এএম/এমএস