ঝালকাঠিতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইকালে মুক্তিযোদ্ধার আবেদন নিয়ে আসা চান মিয়া মল্লিক (৭০) রাজাকার হিসেবে ধরা পড়েছেন।
বৃহস্পতিাবর দুপুরের দিকে আবেদন করতে এসে রাজাকার শনাক্ত হওয়ায় তাকে আটকের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন।
নির্দেশ অনুযায়ী তাকে আটক করে কর্তব্যরত পুলিশ। এ সময় তার সনদপত্রও জব্দ করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন মানবিক কারণে বৃদ্ধ চান মিয়াকে যাচাই-বাছাই শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকার দণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত চান মিয়া মল্লিক সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের চানপুরা গ্রামের মৃত. জয়নাল আবেদীন মল্লিকের ছেলে।
এদিকে, সদর উপজেলার কেওড়া ইউনিয়নের নেহালপুর গ্রামের সুলতান হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে পিপলিতা গ্রামের সুলতান আহম্মেদ ভাতা উত্তোলন করায় ভাতা বন্ধের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন।
কারণ তার মুক্তিযোদ্ধা সনদে নাম রয়েছে সুলতান হোসেন দুয়ারী। জাতীয় পরিচয়পত্র, মুক্তিযোদ্ধার গেজেট ও মুক্তিবার্তায় রয়েছে সুলতান হোসেন এবং জমির মাঠপর্যায় রয়েছে সুলতান আহম্মেদ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম তৃতীয়দিনের মতো শুরু হয়। সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মুন্সি।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মকবুল হোসেন, সদস্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মোতালেব আলাউদ্দিন, শামসুল হক আক্কাস, সদস্য মো. মকবুল হোসেন তালুকদার, মো. শাহজাহান হাওলাদার, আলতাফ হোনে খান ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। যাচাই-বাছাই কমিটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে রাজাকারের ভূমিকা পালন করা চান মিয়া মল্লিক আবেদন করলে মুক্তিযোদ্ধারা তাতে আপত্তি জানায়। আপত্তির প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রাজাকার হিসেবে শনাক্ত হন তিনি।
বৃদ্ধ ব্যক্তি হওয়ায় মানবিক কারণে যাচাই-বাছাই সময় শেষ পর্যন্ত দাড়িয়ে শাস্তি ভোগ করার নির্দেশ দেয়া হয় তাকে। আর সুলতান হোসেন দুয়ারীর বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ পাওয়ায় সার্বিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাইকালে নামে গড়মিল থাকায় তার ভাতা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়।
মোঃ আতিকুর রহমান/এএম/আরআইপি