বরগুনার যেখানেই বড় কোনো গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন হত সেখানেই ডাক পড়তো কাশিশ্বর চন্দ্র রায়ের। বরগুনা বরিশালসহ বাংলাদেশের অনেক জেলায় বড় বড় কীর্তন ও গানের অনুষ্ঠানে ডাক পড়তো তার। রহস্যময় সুর ছিলো তার দোতারায়। শুধুমাত্র কাশিশ্বরের দোতারা শুনতে কীর্তন অনুষ্ঠানে একসময় উপচে পড়তো মানুষের ভিড়।
নামি দামি শত যন্ত্রের মাঝে আজও কাশিশ্বর চন্দ্রের দোতারার সুর খুঁজে ফেরেন তার ভক্তরা। দীর্ঘদিন ধরে বরগুনার উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর নিবেদিত প্রাণ সদস্য ছিলেন তিনি। বয়সের ভারে পুরেপুরি অসুস্থ এখন কাশিশ্বর চন্দ্র রায়। অভাবের টানাপোড়েন আর বয়সের ভারে বড় বেশি কাবু এখন দোতারার যাদুকর কাশিশ্বর চন্দ্র রায় (৮০)।
বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গণে একজন কাশিশ্বও চন্দ্র রায়ের অবদান অপরিসীম। কাশিশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো আরও অনেক সাংস্কৃতিক কর্মী রয়েছেন যারা স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতির উন্নয়নে ছিলেন নিস্বার্থ কর্মী। নিজস্ব চিন্তাভাবনা আর নানাবিধ সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাঙালি জাতিসত্ত্বার বিকাশে।
অথচ সেসব শিল্পীদের অধিকাংশই থেকে যান নিভৃতে নিরালায়। নানা বঞ্চনা আর গঞ্জনা নিয়ে সকলের অগোচরে তাদের অনেকেই এক সময় হারিয়ে যায় কালের স্রোতে।
গুণের কদর না থাকলে যেমন গুণীজন জন্মায় না। তেমনি শিল্পীদের সমাদর না হলে সমাজে গুণী শিল্পীও তৈরি হয় না। তাই স্থানীয় গুণী শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মূল্যায়নে বরগুনার ১৫ জন প্রবীণ শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মানা প্রদান করে বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এসময় প্রত্যেককে ক্রেস্ট, পদক এবং সনদসহ দশ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।
সম্মাননা প্রদান শেষে স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার জেলা প্রশাসক ড. মহা: বশিরুল আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম, বরগুনা পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদাত হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্বাস হোসেন মন্টু এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বরগুনা জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান।
অনুষ্ঠানে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের জন্যে যন্ত্র সংগীত, কণ্ঠ সংগীত, নাট্যকলা, চারুশিল্প, লোকশিল্প এবং যাত্রা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ১৫ জন গুণী শিল্পীকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন, কাশিশ্বর চন্দ্র রায় (যন্ত্রসংগীত), মো. আব্দুল হালিম বাচ্চু (নাট্যশিল্প), আব্দুল গণি বয়াতি লোক শিল্প), প্রিয় বল্লভ কর্মকার (কণ্ঠ শিল্প), নিত্যানন্দ হাওলাদার (যাত্রাশিল্পী), মো. হোসেন আলী বয়াতি (লোকশিল্পী), নিরাঞ্জন কর্মকার (যাত্রাশিল্পী), সুখরঞ্জন শীল (নাট্যশিল্পী), মনিন্দ্র নাথ মন্ডল (চারু শিল্পী), মাধবী দেবনাথ (কণ্ঠ শিল্পী), শ্রী নিখিল চন্দ্র ঋষিদাস (যন্ত্রশিল্পী), সুবল কৃষ্ণ তালুকদার (চারু শিল্পী), জাকিয়া সুলতানা নার্গিস (নাট্যশিল্পী), জাকির হোসেন পান্না (ক্ণ্ঠশিল্পী), জহিরুজ্জামান (আলোকচিত্র)।
সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এমএএস/পিআর