দেশজুড়ে

কুষ্টিয়ায় খাবার হোটেলগুলোতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে

মে দিবসে রেস্তোরাঁ ও হোটেল মালিক সমিতির এক কর্মচারীকে মারপিট করে আহত করার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় খাবার হোটেলগুলোতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন রেস্তোরাঁ ও হোটেল মালিকরা। ধর্মঘটের কারণে অন্য জেলাসহ দূর-দূরান্ত থেকে শহরে আসা মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কুষ্টিয়া হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আলিমুল হক রঞ্জু জানান, সোমবার সকালে শ্রমিক নেতা রমজান, লিয়াকত, আহাদ, কালাম, হযরতসহ বেশ কয়েক জন শহরের জাহাঙ্গীর হোটেলের কয়েকজন কর্মচারীকে হোটেলের মধ্যে ঢুকে মারপিট করতে করতে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনেন।

এ সময় হোটেল মালিক বাধা দিলে শ্রমিক নেতারা হোটেল মালিকের উপরও চড়াও হন। ঘটনার সময় হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির অফিস সহকারী স্বপন হোটেল মালিকের সঙ্গে খারাপ আচরণের প্রতিবাদ করলে শ্রমিক নেতারা উত্তেজিত হয়ে স্বপনকেও বেধড়ক মারপিট করে আহত করেন।

পরে তারা বাগাট মিষ্টান্ন ভান্ডার ও শিল্পী হোটেলে গিয়ে বেশ কয়েক জন শ্রমিককেও মারপিট করে। সন্ধ্যার দিকে শ্রমিক নেতারা টিঅ্যান্ডটি গেট সংলগ্ন তিনটি হোটেলের কর্মচারীদের আগামীকাল থেকে হোটেলে কাজে না আসার নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে আঞ্চলিক শ্রম দফতরের কুষ্টিয়ার উপ-পরিদর্শক হিমন কুমার সাহা জানান, হোটেল মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে অনেক দিন ধরেই বেশ কিছু জটিলতা চলে আসছে। এসব সমস্যা নিরসনে তিনি এর আগেও দুইবার সভা করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, মাঝে মাঝে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং কোনো কিছুই তোয়াক্কা করতে চান না। যে কারণে এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক জানান, মে দিবসে হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও অনেক হোটেল মালিক শ্রমিকদের অনুরোধ উপেক্ষা করে হোটেল রেস্তোরাঁ চালু রাখেন। মালিকদের হোটেল বন্ধ রাখার অনুরোধ জানালে তারা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের ওপর চড়াও হন। তারা কোনো হোটেল মালিক বা কর্মচারীর ওপর হামলা করেননি বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় হোটেল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে শহরের জাহাঙ্গীর হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা দেয়া হয় হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়া পর্যন্ত তারা অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে হোটেল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আলিমুল হক রঞ্জু সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তোতাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আল-মামুন সাগর/আরএআর/পিআর