নারায়ণগঞ্জে নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের আরও দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। তারা দু’জন জেএমবির সক্রিয় সদস্য ও বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় ওই দুইজনকে গ্রেফতারের পর বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে তাদের ছবি ও অভিযান সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।
গ্রেফতাররা হলেন, রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকার মো. কাইয়ুম হাওলাদার ওরফে মিঠু (৩২) ও রাজধানীর উত্তর মান্ডা এলাকার মো. সেলিম (৩২)।
র্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাকিল আহমেদ জানান, গত ৬ ও ৭ এপ্রিল র্যাবের অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড ও কুমিল্লা জেলার গৌরীপুর এলাকা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির (সারোয়ার-তামিম গ্রুপের) ৮ জন এবং ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে আরো ২ জন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার রাতে রূপগঞ্জের রূপসী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সেলিম ও মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা জেএমবির সক্রিয় সদস্য।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার কাইয়ুম হাওলাদার ওরফে মিঠু গত ৫ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছে। সে ২০১২ সালে পিরোজপুর থাকাকালীন জনৈক মামুন এর মাধ্যমে জঙ্গিবাদে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে ঢাকায় চলে আসে। এরপর সে ২০১৬ সালের শুরুতে জেএমবিতে (সারোয়ার-তামিম গ্রুপে) যোগদান করে।
সে ঢাকা, লালমনিরহাট, পিরোজপুর, বাগেরহাট, গাইবান্দা ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় গমন করে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করত। সে লালমনিরহাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন চরে গিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য স্থান নির্ধারণের কাজও করত।
গ্রেফতারকৃত অপর আসামি মো. সেলিম গত ১৫ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করে এবং জঙ্গি নেতা মুফতি মো. জসিম উদ্দিন রাহমানির কাছে যাতায়াত শুরু করে এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জঙ্গিবাদে প্রবেশ করে।
পরবর্তীতে সে বিগত ২০১৬ সালের শুরুতে জনৈক মোনতাছিরের মাধ্যমে জেএমবিতে (সারোয়ার-তামিম গ্রুপে) যোগদান করে এবং সক্রিয় সদস্য হিসেবে দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করে। সে তার মুরগি ব্যবসার অন্তরালে জেএমবির (সারোয়ার-তামিম গ্রুপের) অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত।
বিভিন্ন জঙ্গিবাদী ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করে সমমনাদের ভিতর প্রচার করে আসছিল। সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে জেএমবির প্রচার কার্য চালিয়ে আসছিল।
শাহাদাত হোসেন/এফএ/এমএস