ঠাকুরগাঁওয়ের হত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল আধুনিক সদর হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত এ হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল সংকটে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় রোগীরা। তবে বাধ্য হয়েই ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সদর হাসপাতালে শুধু মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, দুর্ঘটনায় সেলাই ছাড়া কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। একটু জটিল সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক রংপুরে রেফার্ড করা হয়। যা একজন গ্রামের অসহায় মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় উঠে না। জীবন বাঁচানোর জন্যই মানুষের কাছে ধার দেনা করে সুস্থ হওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে যেতে হয় রংপুর। তাই ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে সকল চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন অসহায় রোগী ও স্বজনরা।
বুধবার রাত ২টা ৪০ মিনিট সরেজমিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ৩০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা প্রায় শতাধিকের বেশি। একটি বেডে তিন থেকে চারজনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বড়গাঁও ইউনিয়ন থেকে আসা এক গৃহবধূ সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেছেন। মা ও শিশু হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু শিশু ওয়ার্ডে কোনো কর্তব্যরত চিকিৎসক নেই। একজন নার্স ওই শিশুটির চিকিৎসা দিতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অপর দিকে শিশুর অভিভাবক সিরাজুল দুচিন্তায় সময় পার করছেন।
নার্সকে চিকিৎসকের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ডাক্তারদের কি বিশ্রাম নেই। সারাদিন শুধু মানুষের সেবাই দিয়ে যাবে। তাছাড়া হাসপাতালে ডাক্তার ও জনবল তীব্র সংকট। আমাদের চিকিৎসা দিতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হরিপুর থেকে আসা ইসরাফুল হোসেন জানান, দুদিন আগে জ্বরজনিত রোগে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু এখনো সুস্থ হয়ে উঠেনি। ডাক্তাররা শুধু চেম্বারে আসতে বলছেন। টাকার অভাবে বাচ্চাটার সঠিক সেবা দিতে পারছি না।
গড়েয়া এলাকার কামরুল হোসেন জানান, গত চারদিন যাবত ডায়রিয়ার কারণে ছেলের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছি। দিনে ডাক্তার থাকলেও রাতে হাসপাতাল হয় অভিভাবকহীন। কাউকেই পাওয়া যায় না।
বালিয়াডাঙ্গী থেকে আসা আশা মনি বলেন, শিশু ওয়ার্ডে পা ফেলার জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে এক বেডে ৩/৪ জন শিশুর চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তাছাড়া অতিরিক্ত গরমে রাতে বাইরেই থাকতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে বেড ও সেবার মান বাড়ালে আমাদের মত দুস্থ রোগীরা একটু ভালো সেবা পাবে। কারণ ক্লিনিকে সেবা নেয়ার সামর্থ্য এখানকার কারো নেই।
সার্জারি বিভাগের রোগী হাসনাত জানান, গতরাতে মোটরসাইকেল দুঘর্টায় আহত হয়ে পড়ে আছি। হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন নাকি দীর্ঘদিন যাবত পড়ে রয়েছে। তাই টাকা যোগার করে বাইরের প্যাথলজিতে এক্স-রে করাতে হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যার হলেও এখানে ৫০ শয্যার ডাক্তার ও জনবল নেই। একটি ৫০ শয্যার হাসপাতালেই ২২ জন চিকিৎসক থাকার নিয়ম রয়েছে। সেখানো ১০০ শয্যার হাসপাতালে মাত্র ১৫ জন চিকিৎসক রয়েছে। যা প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোরে তিন থেকে চার শতাধিক রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। হাসপাতালে নতুন ভবনের কাজ চলছে সেটি পূর্ণাঙ্গ চালু হলে ডাক্তার, জনবলসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়বে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. রাব্বী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে আমাদের প্রচুর বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক সময় সারাদিন ডিউটি করে রাতেও করতে হচ্ছে। আমরা সাধ্য মতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি। হাসপাতালে চিকিৎসকসহ জনবল বাড়ালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
রবিউল এহসান রিপন/আরএআর/পিআর