চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার হাওরবেষ্টিত শাহ্জাদাপুর ইউনিয়নে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ফলন বাম্পার হলেও জমিতে জোঁক আতঙ্কের কারণে ভরা মৌসুমেও ধান কাটতে পারছে না কৃষকরা। এর ফলে জমিতেই ঝরে পড়ছে পাকা ধান।জানা যায়, চলতি বছর জেলার সরাইল উপজেলার শাহ্জাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া, মলাইশ, নিয়ামতপুর, গাজীপুর ও ধাউরিয়া গ্রামে ৩৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলন হলেও জোঁকের কারণে কৃষকরা তাদের পাকা ধান কাটতে পারছেন না। তাছাড়া চড়া মজুরি দিলেও জোঁকের ভয়ে জমিতে নামতে চাইছেন না শ্রমিকরা।শাহজাদাপুর এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, জমিগুলোতে হাজার হাজার জোঁক কিলবিল করছে। শ্রমিকরা ধান কাটতে নামলেই দুই পায়ে আক্রমণ করে বসে জোঁক। এসব জোঁক পা বেয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দিয়ে থাকে। কৃষি অফিস থেকে সরবরাহকৃত লবন-চুন আর স্থানীয় প্রযুক্তিও ঠেকাতে পারছে না জোঁকের আক্রমণ। এর ফলে জোঁকের ভয়ে শ্রমিকরা ধান কাটতে না চাওয়ায় পাকা ধান এখন জমিতেই ঝরে পড়ছে।শাহ্জাদাপুর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, গত বছর ৪শ’ টাকা হারে শ্রমিক খাটিয়েছিলাম। কিন্তু এবার জোঁকের কারণে ৬শ’ টাকা হারেও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে পাকা ধানগুলো জমিতেই ঝরে পড়ছে।এদিকে চড়া দাম দিয়েও শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক জমির মালিককে দুই পা পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে ধান কাটতে দেখা গেছে। তবে হঠাৎ করে ফসলি জমিতে জোঁকের প্রকোপ বাড়ার কারণ হিসেবে মাঠের সরকারি খালগুলো ভরাটকেই দায়ী করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকরা। খাল ভরাটের কারণেই বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশন।এ ব্যাপারে শাহ্জাদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ধানি জমির পাশের সব খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে জোঁক জমিতে এসেছে। এ কারণে কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।তবে সরাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার কৃষকদের ডামবুট পরার পরামর্শ দিয়ে বলেন, জমিতে ধান কাটার সময় কৃষকরা পায়ে ডামবুট অথবা পলিথিন মুড়িয়ে নিলে জোঁকের আক্রমণ থেকে কিছুটা রক্ষা পাবেন।আজিজুল আলম সঞ্চয়/এসএস/পিআর