প্রচণ্ড ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার প্রায় ৫ হাজার বোরো ধানখেত, ভুট্টা ও আমসহ ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও রাণীংশকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও, নন্দুয়ার ইউনিয়নের ও হরিপুর উপজেলার আমগাঁও এবং গেদুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শত শত বাড়ি-ঘরের টিনের ছাউনি শিলাবৃষ্টির কারণে ঝাঝরা হয়ে গেছে। প্রায় ৪৫ মিনিটব্যাপী এ শিলাবৃষ্টিতে কাঁচা-পাকা আমসহ বিভিন্ন ফল ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাণীংশকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ও নন্দুয়ার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক ঘরের মধ্যে ৯০ থেকে ৯২ ভাগ ঘরের টিন ফুটো হয়ে ঝাঝরা হয়ে গেছে। এই গ্রামের লোকজনকে বর্তমানে মানবেতর অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।
নন্দুয়া গ্রামের সাদেক আলী বলেন, তার বাড়ির দুটি ঘরের টিনের চালা শিলায় ফুটো হয়ে গেছে। তার সামর্থ্য নেই টিন কিনে ঘর মেরামত করার।
রাণীংশকৈল উপজেলার নির্বাহী অফিসার নাহিদ হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার প্রস্তুতি চলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মাউদুদুল ইসলাম জানান, শিলা বৃষ্টিতে ফসল ও ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, রোববার হঠাৎ বিকেলেশিলা বৃষ্টিতে ফসলের তেমন ক্ষতি না হলেও দু’টি উপজেলায় ঘর-বাড়ির টিনের চালা ফুটো হয়ে ঝাঝরা হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ক্ষতির তালিকা করার জন্যে স্থানীয় প্রশাসনদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তালিকা পেলেই প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা ও ত্রাণ প্রদান করা হবে।
ঠাকুরগাঁও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সেলিনা জাহান লিটা জানান, শিলাবৃষ্টি হওয়ার পরেই আমি ও উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পূরনের জন্য তালিকা প্রণয়ণ করা হবে।
রবিউল এহসান রিপন/এফএ/জেআইএম