পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে সুচিকিৎসা না পেয়ে সিভিল সার্জনের বাসার সামনে অবস্থান ধর্মঘট করছেন পলাশ কুমার রায় নামে এক রোগী। ১২ মে শুক্রবার চর্মরোগের সমস্যা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার পর বিকেলে শহরের তেঁতুলিয়া রোড এলাকায় সিভিল সার্জনের বাসার সামনে তিনি শুয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় উৎসুক জনতার ভিড়ে পঞ্চগড় ঢাকা মহাসড়কের অবরোধের সৃষ্টি হয়। সড়কের উভয়পাশে অর্ধশত যানবাহন আটকা পরে। ঘণ্টাখানেক পরে পুলিশ এসে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন এবং স্থানীয়রা পলাশকে নিয়ে তার বাসায় পৌঁছে দেন। পেশায় একসময় আইনজীবী ছিলেন পলাশ। তিনি আটোয়ারী উপজেলার বড় সিংগিয়া গ্রামের প্রণব কুমার রায়ের ছেলে। তবে চিকিৎসকদের দাবি পলাশ একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ।
পলাশ রায়ের অভিযোগ, সোরিয়াসিস নামে এক প্রকার চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চারদিনে হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক তার চিকিৎসা করেননি। দু’একবার খোঁজ খবর নিয়েছেন মাত্র। পরে তিনি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উপর মহলে যোগাযোগের খবরটি চিকিৎসকরা জানতে পারলে তাকে মঙ্গলবার সকালে জোড় করে ছাড়পত্র ধরিয়ে দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। পরে তিনি সিভিল সার্জনের বাসার সামনে শুয়ে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন।
পলাশের মা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মিরা রানী রায় বলেন, আমার ছেলে মানসিকভাবে সুস্থ। একসময় ঢাকায় আইন পেশায় ছিলেন। একটি কোম্পানির লিগ্যাল এডভাইজার পরে চাকরিও করতেন। পরে ওই কোম্পানি তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের একটি মিথ্যা মামলা করেন। উচ্চ আদালত থেকে সেই মামলার জামিন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাসাতেই থাকছেন।
সদর হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোশারফ হোসেন জানান, তিনি যে রোগের কথা মুখে বলেছেন, সেই রোগের আলামত শরীরে নেই। তাছাড়া তিনি একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ নিচ্ছেন। তার পরেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তাকে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছিল।
সিভিল সার্জন ডা. পিতাম্বর রায় বলেন, পলাশ একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ। কোনো এক মামলায় তাকে নাকি এক সময় র্যাব নির্যাতন করেছিল। এরপর থেকে তার নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। হাসপাতালে তাকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া এখানে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছিল।
সফিকুল আলম/এমএএস/এমএস